নেপালের বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে বানরের উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফসল রক্ষায় ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাঠি, গুলতি, কুকুর ও ঘরে তৈরি শব্দ তৈরির যন্ত্র নিয়ে পাহারা দিচ্ছেন কৃষকরা। তবুও কয়েক মিনিটের মধ্যেই বানরের দল মাঠে নেমে ভুট্টা, ধান, শাকসবজি ও ফলের বাগান নষ্ট করে দিচ্ছে।
দেশটির দোলাখা জেলার ধর্মঘর (Dharmghar) গ্রামে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। স্থানীয়দের ভাষ্য, বহু বছরের চেষ্টাতেও বানরের আক্রমণ ঠেকানো যায়নি। লেজার লাইট, কুকুর, পাথর ছোড়া, এমনকি শত শত মানুষ একসঙ্গে অভিযান চালিয়ে বানরের দলকে জঙ্গলে তাড়িয়েও স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি। কয়েক দিনের মধ্যেই তারা আবার ফিরে আসে।
৭১ বছর বয়সী কৃষক দেবকা কার্কি জানান, একদিন মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য মাঠ ছেড়ে পানি আনতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন বানরের দল কয়েক মাসের পরিশ্রমে ফলানো ফসল প্রায় পুরোপুরি নষ্ট করে দিয়েছে। তিনি বলেন, তার ছেলেরা কাজের জন্য কাঠমান্ডুতে চলে যাওয়ায় এখন তিনি ও তার স্বামী একাই জমি দেখাশোনা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের অধিকাংশ তরুণ কাজের সন্ধানে শহর কিংবা বিদেশে চলে যাওয়ায় কৃষিজমি রক্ষার লোক কমে গেছে। ২০১৭ সালে যেখানে ধর্মঘরে প্রায় ৮০০ মানুষের বসবাস ছিল, এখন সেখানে মাত্র দেড়শ জনের মতো মানুষ রয়েছেন। অনেক জমি ও বাড়ি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ায় বানরের বিচরণ আরও বেড়েছে।
বানরের হামলা শুধু ফসলের ক্ষতিই করছে না, মানুষের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে। গত বছর ৭৩ বছর বয়সী কৃষক কৃষ্ণ বাহাদুর খড়কাকে একদল বানর আক্রমণ করে মাটিতে ফেলে দেয় এবং কামড়ে গুরুতর আহত করে। দীর্ঘ চার মাস শয্যাশায়ী থাকার পরও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি।
এদিকে বিষয়টি নেপালের সংসদেও আলোচনায় এসেছে। আইনপ্রণেতারা একদিকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, অন্যদিকে কৃষকদের জীবিকা রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য আনার উপায় খুঁজছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অনেকেই কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।
সূত্র:এপি নিউজ
আরও পড়ুন:







