প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্টি হওয়া শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’ জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসছে। ভয়াবহ এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টিপাত, জলোচ্ছ্বাস এবং ভূমিধসের আশঙ্কায় জাপানের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা (JMA) জানিয়েছে, টাইফুনটি ঘণ্টায় প্রায় ১৪৪ কিলোমিটার বেগে স্থায়ী বাতাস এবং সর্বোচ্চ ১৯৮ কিলোমিটার পর্যন্ত দমকা হাওয়া সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে কাগোশিমা ও ওকিনাওয়া অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টি, উঁচু ঢেউ এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ইতোমধ্যে ৫০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ওকিনাওয়ার নাহা বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া টয়োটা নিরাপত্তার স্বার্থে জাপানের নয়টি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে।
এদিকে টাইফুনটি জাপান অতিক্রম করে পূর্ব চীনের উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চীনের ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ান প্রদেশে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরার নৌযান ফিরিয়ে আনা, জাহাজ চলাচল সীমিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, স্থলভাগে আঘাত হানার আগে টাইফুনটি কিছুটা দুর্বল হতে পারে। তবে এর বিশাল আকারের কারণে প্রবল বৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং উপকূলীয় জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি কয়েক দিন ধরে অব্যাহত থাকতে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







