ভারতের হিমাচল প্রদেশে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে রাজ্যটির চাম্বা জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একটি বেসরকারি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে নিচের একটি সড়কে পড়ে গেলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, দুর্ঘটনাটি চাম্বা জেলার দেবিকোঠি এলাকার বৈরাগড়-তিসা সড়কের চালুঞ্জ মোড়ের কাছে ঘটে। বাসটি শর্মা বাস সার্ভিসের। এটি বৈরাগড় থেকে চাম্বার দিকে যাচ্ছিল। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বৈরাগড় থেকে যাত্রা শুরুর প্রায় তিন কিলোমিটার পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে মোট ১৮ জন যাত্রী ছিলেন। নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর বাসটি উল্টে নিচের আরেকটি সড়কের ওপর গিয়ে পড়ে। এতে কয়েকজন যাত্রী বাসের ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকা পড়েন। নিহতদের মধ্যে বাসটির চালক ও কন্ডাক্টরও রয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে সহায়তা করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), পুলিশ, হোমগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও রাজস্ব বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনেন। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চাম্বার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চাম্বা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনায় আটজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
প্রাথমিকভাবে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেলেও ঠিক কী কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
বৈরাগড়-তিসা সড়কটি চুরাহ উপত্যকার একটি দুর্গম পাহাড়ি পথ। প্রায় ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের বিভিন্ন অংশ সরু এবং খাড়া ঢালসংবলিত। উচ্চতর এলাকায় অবস্থিত সাচ পাসের দিকে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দুর্ঘটনার স্থানটিও পাহাড়ি ও দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকাজে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়।
হিমাচল প্রদেশের পাহাড়ি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি দীর্ঘদিনের। সরু পাহাড়ি রাস্তা, খাড়া ঢাল এবং দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এসব এলাকায় যানবাহন চলাচলে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন হয়।
সূত্র: এনডিটিভি
আরও পড়ুন:







