News Ticker
221.png

তেল বিক্রি ছাড়াই হরমুজ থেকে বছরে ১৪০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে ইরান!

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:৩৩

শেয়ার

শেয়ার

তেল বিক্রি ছাড়াই হরমুজ থেকে বছরে ১৪০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে ইরান!
ছবি: সংগৃহীত

তেল বিক্রি ছাড়াও কৌশলগত হরমুজ প্রণালিকে ব্যবহার করে বিপুল অর্থ আয় করতে পারে ইরান—এমন একটি দাবি সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন বিশ্লেষণে এমনকি বছরে ১৪০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয়ের সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। তবে এই অঙ্কের পক্ষে নির্ভরযোগ্য অর্থনৈতিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। বরং বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলে টোল আরোপ করে ইরানের সম্ভাব্য আয় এর চেয়ে অনেক কম হতে পারে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জ্বালানি পরিবহনপথ। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) বলছে, ২০২৫ সালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়েছে, যা বৈশ্বিক সমুদ্রপথে তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

হরমুজের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই জলপথের ওপর ইরানের বড় ধরনের কৌশলগত প্রভাব রয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যে তেহরান জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে এবং নির্দিষ্ট জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। মে মাসে ইরান ‘Persian Gulf Strait Authority’ নামে একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের কথা জানায়, যা প্রণালির নৌযান চলাচল নিয়ে তথ্য ও ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখার কথা।

এ থেকেই প্রশ্ন উঠেছে—ইরান যদি হরমুজ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর ফি বা টোল আরোপ করতে পারে, তাহলে তেল বিক্রি না করেও বড় অঙ্কের বৈদেশিক আয় করা সম্ভব কি না।

তবে জাহাজের সংখ্যা ও সম্ভাব্য ফি হিসাব করলেই ১৪০ বিলিয়ন ডলারের অঙ্কটি বাস্তবসম্মত হয়ে যায় না।

হরমুজ দিয়ে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ছিল তেলবাহী ট্যাংকার।

কিন্তু প্রতিটি জাহাজের ওপর বিপুল পরিমাণ টোল আরোপ করা হলে জাহাজ মালিকদের জন্য তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন, নৌযান চলাচলের অধিকার এবং বিকল্প রুটের বিষয়ও সামনে চলে আসবে।

এ কারণে ১৪০ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য আয়কে বাস্তবসম্মত সরকারি রাজস্বের পূর্বাভাস হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত।

একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল থেকে ইরানের সম্ভাব্য টোল আয় নিয়ে যে ৪০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের হিসাব প্রচলিত হয়েছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। আশাবাদী পরিস্থিতিতেও সম্ভাব্য আয় বছরে প্রায় ১–২ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে থাকতে পারে বলে ওই বিশ্লেষণে অনুমান করা হয়েছে।

হরমুজের গুরুত্ব মূলত এর অবস্থানের কারণে। এটি অত্যন্ত সরু একটি সামুদ্রিক পথ। IEA-এর তথ্য অনুযায়ী, এর সবচেয়ে সরু অংশ প্রায় ৫৪ কিলোমিটার প্রশস্ত এবং জাহাজ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট নৌপথ রয়েছে।

বিশ্বের বড় তেল উৎপাদক দেশগুলোর কয়েকটির রপ্তানি এই পথের ওপর নির্ভরশীল। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু বিকল্প রপ্তানি ব্যবস্থা থাকলেও ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের মতো দেশ হরমুজের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

ফলে হরমুজে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে শুধু ইরান নয়, পুরো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

ChannelNRB Footer