নেপালের একটি প্রাদেশিক সরকার দেশজুড়ে গাঁজা নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসাক্ষেত্রে এর চাষ ও ব্যবহারের বিষয়টি বৈধ করেছে।
গান্দাকি প্রদেশের প্রধানের অনুমোদনের পর সোমবার এই আইনটি কার্যকর হয়। গান্দাকি প্রদেশের প্রধানের কার্যালয়ের মুখপাত্র প্রবিন পৌদিয়াল জানান, এই আইনের ফলে এখন সেখানে গাঁজার চাষ ও চিকিৎসাক্ষেত্রে এর ব্যবহার সম্ভব হবে।
কৃষকদের প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিতে হবে এবং তাদের কার্যক্রম কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
গাঁজার চাষ, কাছে রাখা এবং ব্যবহারের ওপর জাতীয় পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রাদেশিক সরকার এই আইনটি প্রণয়ন করেছে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য গাঁজা কাছে রাখলে এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে; অন্যদিকে, জব্দ করা গাঁজার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে এর বিতরণ ও বিক্রির দায়ে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
হিমালয়-ঘেরা এই দেশটির সাতটি প্রদেশের একটি হলো গান্দাকি; জনপ্রিয় পর্বতশৃঙ্গ, হাইকিং ট্রেইল এবং পর্যটন শহর পোখারা এখানেই অবস্থিত।
গাঁজা নেপালের স্থানীয় উদ্ভিদ এবং বিভিন্ন উৎসবে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। নেপালের বিভিন্ন অধিকারকর্মী সরকারের কাছে আইন পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন যাতে এর ব্যবহার বৈধ করা হয়।
একসময় দেশটির সংস্কৃতি ও ধর্মের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল গাঁজা।
তবে ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে অন্যান্য দেশের মতো নেপালও গাঁজাকে বেআইনি ঘোষণা করে এবং সে সময় দেশটিতে ভিড় করা হিপিদের বিতাড়িত করে।
বসন্তকালে নেপালে অনুষ্ঠিত বার্ষিক শিবরাত্রি উৎসবে ভক্তরা শ্রদ্ধেয় হিন্দু দেবতা শিবের মন্দির প্রাঙ্গণে অবাধে গাঁজা সেবন করে থাকেন। উৎসব চলাকালীন কর্তৃপক্ষ সাধারণত এর ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে থাকে।
সূত্র: এপি নিউজ
আরও পড়ুন:







