News Ticker
221.png

ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়াচ্ছে হিজবুল্লাহ!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ আগস্ট, ২০২৬ ২১:১৮

শেয়ার

শেয়ার

ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়াচ্ছে হিজবুল্লাহ!
ছবি: সংগৃহীত

একের পর এক সামরিক আঘাত, শীর্ষ নেতৃত্বের ক্ষয়ক্ষতি এবং লেবাননে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বাড়তে থাকা চাপের মধ্যেও আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে হিজবুল্লাহ। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর সংগঠনটি তার সামরিক কমান্ড কাঠামো পুনর্গঠন এবং অস্ত্র সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে।

২০২৪ সালের যুদ্ধে ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহর নেতৃত্ব ও যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। পরবর্তী সময়ে সংগঠনটির সামরিক কাঠামোতে শূন্যতা তৈরি হলেও ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সহায়তায় সেই কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ পুনর্গঠনের চেষ্টা হয়েছে বলে Reuters-এর এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

শুধু কমান্ড কাঠামো নয়, রকেট ও ড্রোনের মজুতও বাড়ানোর চেষ্টা করেছে হিজবুল্লাহ। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা সামনে রেখে সংগঠনটি কয়েক মাস ধরে অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় পূরণ করছিল।

তবে পুনর্গঠনের এই প্রচেষ্টা সহজ হচ্ছে না। লেবানন সরকারের ওপর হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি কাঠামোতে ইসরায়েলি প্রত্যাহারের সঙ্গে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণকে যুক্ত করা হয়েছে—যে বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত।

জুলাইয়ের শেষ ও আগস্টের শুরুতেও হিজবুল্লাহর অবকাঠামো এবং সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ইসরায়েলি অভিযোগ ও অভিযান অব্যাহত ছিল। একই সময়ে সংগঠনটির নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। ফলে হিজবুল্লাহ একদিকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় চাপ মোকাবিলা করছে।

বিশ্লেষকদের কাছে তাই প্রশ্নটি শুধু হিজবুল্লাহ কতটা দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারছে তা নয়; বরং পুনর্গঠিত সংগঠনটি ভবিষ্যতে লেবাননের রাজনৈতিক কাঠামো ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় কী ভূমিকা রাখবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের সঙ্গে যদি নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে সংঘাত বাড়ে, তাহলে লেবাননে নতুন করে অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অর্থাৎ, ধ্বংসস্তূপ থেকে হিজবুল্লাহর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা স্পষ্ট হলেও সংগঠনটি আগের অবস্থানে ফিরতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। সামরিক পুনর্গঠন, ইরানের সহায়তা, লেবানন সরকারের অবস্থান এবং ইসরায়েলের সামরিক চাপ—এই চারটি বিষয়ই নির্ধারণ করবে সামনে হিজবুল্লাহর গতিপথ।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer