জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া দ্বীপপুঞ্জে তাণ্ডব চালানোর পর শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’ এখন চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে জাপানে ছয়জন আহত হয়েছেন এবং ৫০ হাজারের বেশি স্থাপনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। চীনে ঝড়টির সম্ভাব্য আঘাত মোকাবিলায় বন্দর বন্ধ, ফ্লাইট বাতিল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজন সরিয়ে নেওয়াসহ নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডলফিনের সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৬২ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছে। দমকা হাওয়ার গতি আরও বেশি ছিল। ঝড়টি জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলে আঘাত হানার সময় প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
ওকিনাওয়ায় ছয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষতির কারণে ৫০ হাজারের বেশি ভবন বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
জাপান অতিক্রমের পর ডলফিন পশ্চিমমুখী হয়ে চীনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার রাত থেকে সোমবারের মধ্যে এটি চীনের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে। ঝড়টির সম্ভাব্য প্রভাব পড়তে পারে ঝেজিয়াং, ফুজিয়ান, জিয়াংসু, আনহুই, জিয়াংসি ও সাংহাই অঞ্চলে।
ঝড়ের সঙ্গে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। ঝেজিয়াংয়ের কিছু এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে আকস্মিক বন্যা, নদীর পানি বৃদ্ধি এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় চীনের উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন বন্দর ও ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। সাংহাইসহ কয়েকটি এলাকায় বিমান চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। চীনে এক হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সাংহাইয়ের ইয়াংশান বন্দরের ৫০০টির বেশি জাহাজও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রপথে দুর্ঘটনা এড়াতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চল, ছোট নদী এবং জলাধারগুলোর ওপর বাড়তি নজর রাখা হচ্ছে।
ঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশের পর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তবে এর প্রভাবে কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে ঝড়ের সরাসরি বাতাসের চেয়ে পরবর্তী বন্যা ও ভূমিধস অনেক এলাকায় বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







