নতুন প্রেসিডেন্টের শপথগ্রহণের পরপরই বোমা হামলায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া। প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক দিনের মাথায় দেশটির দুই ভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি হামলা হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্যান-আমেরিকান মহাসড়কে, অন্যটি ভেনেজুয়েলা সীমান্তবর্তী কুকুটা শহরে পুলিশের একটি স্থাপনার কাছে।
শনিবার দক্ষিণ-পশ্চিম কলম্বিয়ার প্যান-আমেরিকান মহাসড়কের একটি টোল প্লাজায় গাড়িবোমা বিস্ফোরণ ঘটে। দেশটির সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিস্ফোরণে অন্তত দুই নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় টোল প্লাজা ও আশপাশের স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িঘরও ক্ষতির শিকার হয়েছে।
কলম্বিয়ার সেনাবাহিনী এই হামলার জন্য সাবেক FARC বিদ্রোহী গোষ্ঠীর শান্তিচুক্তিবিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী সদস্যদের দায়ী করেছে। তবে হামলার দায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত দাবি পাওয়া যায়নি।
এর আগে শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলা সীমান্তের কাছে কুকুটা শহরে পুলিশের একটি স্থাপনার বাইরে বিস্ফোরণ ঘটে। একটি ট্রাক বিস্ফোরণের ঘটনায় ১১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বিস্ফোরণে ভবনটির ছাদ ও জানালার ব্যাপক ক্ষতি হয়।
কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষ এই হামলার জন্য দেশটির সক্রিয় বিদ্রোহী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দিকে সন্দেহের তীর ছুড়েছে। সীমান্তবর্তী কুকুটা দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার, চোরাচালান ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার কারণে নিরাপত্তার দিক থেকে স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত।
ঘটনাগুলোর সময়কাল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ৭ আগস্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। তিনি বামপন্থি সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
শপথ গ্রহণের পরপরই নতুন প্রেসিডেন্ট দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহী ও অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন। তিনি নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি এবং রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন।
এর পরের দিনই একাধিক বোমা হামলার ঘটনা নতুন সরকারের জন্য বড় নিরাপত্তা পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাত ও মাদকভিত্তিক অপরাধী নেটওয়ার্ক মোকাবিলা নতুন প্রশাসনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
কলম্বিয়ায় ২০১৬ সালের শান্তিচুক্তির পর FARC-এর মূল সংগঠন বিলুপ্ত হলেও এর কিছু বিচ্ছিন্ন অংশ অস্ত্র সমর্পণ করেনি। এসব গোষ্ঠী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও সক্রিয় এবং মাদক পাচার, অবৈধ খনি ও স্থানীয় ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘাতে জড়িত।
সাম্প্রতিক হামলার ক্ষেত্রেও কলম্বিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী এসব বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার দিকে ইঙ্গিত করেছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীকে চূড়ান্তভাবে দায়ী করা যায় না।
একই দিনে দেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনায় কলম্বিয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্যান-আমেরিকান মহাসড়ক দেশটির গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হওয়ায় সেখানে হামলা পরিবহন ও বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলা ইতিমধ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফলে নতুন সরকারের প্রথম দিনেই এই হামলা দেশটির নিরাপত্তা নীতিতে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিতে পারে।
সূত্র: এপি
আরও পড়ুন:







