ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের ভয়াবহতার আরেকটি চিত্র সামনে এসেছে। গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে চার দিন ধরে অভিযান চালিয়ে ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর বেশিরভাগই নারী ও শিশুর বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স।
গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের আল-সিনা স্ট্রিটে অবস্থিত ‘কারাম’ আবাসিক ভবনে এই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। গাজার সিভিল ডিফেন্সের বিশেষায়িত দল টানা চার দিন ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
উদ্ধারকাজের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আবু দান জানান, ওই ভবনে অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর দলটি গাজা সিটির অন্য একটি এলাকায় নতুন উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।
গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা মরদেহ উদ্ধারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারী নির্মাণযন্ত্রের সংকট। সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, বর্তমানে উদ্ধারকারী দল অত্যন্ত সীমিত সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করছে। তাদের হাতে রয়েছে মাত্র একটি খননযন্ত্র, একটি বুলডোজার ও একটি ট্রাক। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটিও এই কাজে সহায়তা করছে।
ফলে অনেক জায়গায় উদ্ধারকারীদের হাতে-কলমে ধ্বংসস্তূপ সরাতে হচ্ছে। এতে একটি ভবন থেকে মরদেহ উদ্ধার করতেই কয়েক দিন সময় লেগে যাচ্ছে।
গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনগুলোর নিচে এখনও বিপুলসংখ্যক মরদেহ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
গত ১৯ জুলাই শুরু হওয়া উদ্ধার কার্যক্রমের দ্বিতীয় ধাপে গাজা উপত্যকার ১৪৭টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির নিচে থাকা আনুমানিক ১ হাজার ৭২টি মরদেহ উদ্ধারের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া প্রথম ধাপে ৫৪টি ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন থেকে ৩৩৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে আরও প্রায় ২২৬টি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
গাজায় যুদ্ধের সময় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। গাজার সরকারি কর্মকর্তাদের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারেন।
ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ ব্যাপক হওয়ায় প্রতিটি এলাকায় পৌঁছে অনুসন্ধান চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো বলছে, প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি ও জ্বালানি সরবরাহ না বাড়ালে এই উদ্ধার অভিযান দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।
দীর্ঘ সংঘাতের কারণে গাজার বহু আবাসিক এলাকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ধ্বংস হওয়া ভবনের নিচে জীবিত কেউ আছেন কি না, কিংবা সেখানে মরদেহ পড়ে আছে কি না—তা নিশ্চিত করতেও উদ্ধারকারী দলকে ব্যাপক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।
কারাম ভবন থেকে ১৯টি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা সেই মানবিক বিপর্যয়েরই আরেকটি করুণ চিত্র সামনে এনেছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হলেও গাজার বিভিন্ন এলাকায় এখনও অসংখ্য ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের নিচে চাপা পড়ে থাকা মানুষের সন্ধান চলছে।
সূত্র: আল জাজিরা
আরও পড়ুন:







