যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় একটি অগ্নিনির্বাপক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে ফিশলেক ন্যাশনাল ফরেস্ট এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধারকারী দল তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। শনিবার নিরাপদে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কর্তৃপক্ষ দুই পাইলটের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।
নিহত দুই পাইলট একটি Sikorsky Skycrane হেলিকপ্টারে করে ওয়াইল্ডমাউথ ২ দাবানল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছিলেন। হেলিকপ্টারটি যুক্তরাষ্ট্রের ফরেস্ট সার্ভিসের সঙ্গে চুক্তির আওতায় কাজ করছিল।
শুক্রবার সকালে হেলিকপ্টারটি আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর সেটি থেকে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং তা বিদ্যমান ওয়াইল্ডমাউথ ২ দাবানলের সঙ্গে মিশে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। আগুনের তীব্রতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকারী ও তদন্তকারী দলকে অপেক্ষা করতে হয়।
শনিবার পরিস্থিতি কিছুটা নিরাপদ হলে উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই পাইলটের মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে মরদেহগুলো মেডিকেল পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
ওয়াইল্ডমাউথ ২ দাবানল ইতোমধ্যে বিশাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুনে ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ একরেরও বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। আগুনের মাত্র ২৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
দাবানলের বিস্তার ঠেকাতে স্থলভাগের পাশাপাশি আকাশপথেও ব্যাপকভাবে অগ্নিনির্বাপক বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু আগুনের তীব্রতা ও দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ার কারণে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ—দুই কাজই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
হেলিকপ্টারটি কেন বিধ্বস্ত হলো, তা এখনো নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB) তদন্ত করবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তে দুর্ঘটনার আগে হেলিকপ্টারের অবস্থান, আবহাওয়া, আগুনের পরিস্থিতি, উড্ডয়ন কার্যক্রম এবং যান্ত্রিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশে এক বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে চলতি বছরের দাবানল মৌসুমে অগ্নিনির্বাপক ও উদ্ধারকর্মীদের জন্য ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। দুর্গম বনাঞ্চল, প্রবল বাতাস, শুষ্ক আবহাওয়া এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের কারণে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আরও পড়ুন:







