News Ticker
221.png

১০টি বুলেট নিয়ে কারাগারে প্রেমিককে দেখতে হাজির স্কুলছাত্রী!

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৩৯

শেয়ার

শেয়ার

১০টি বুলেট নিয়ে কারাগারে প্রেমিককে দেখতে হাজির স্কুলছাত্রী!
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তরপ্রদেশের গোন্ডায় কারাগারে বন্দি প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে এক স্কুলছাত্রী। জেলের প্রধান ফটকে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে ১০টি তাজা গুলি, একটি জাল আধার কার্ড ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ওই কিশোরী ও তার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে গত ৬ আগস্ট, গোন্ডা ডিভিশনাল জেলে। কারাগার কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, স্কুলছাত্রীটি আরও এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে বন্দি হর্ষু কাশ্যপের সঙ্গে দেখা করতে জেলে এসেছিল।

প্রধান ফটকে নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশির সময় তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হয় নিরাপত্তাকর্মীদের। সে যে নাম ব্যবহার করেছিল, তা তার আধার কার্ডে থাকা নামের সঙ্গে মিলছিল না। এরপর তাকে তল্লাশি করা হলে পকেট থেকে ১০টি তাজা গুলি পাওয়া যায়।

গুলির পাশাপাশি ওই কিশোরীর কাছ থেকে একটি জাল আধার কার্ড এবং কিছু নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ডেকে পাঠানো হয়।

পরে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীসহ কিশোরী ও তার সঙ্গীকে স্থানীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী তার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করে। পুলিশের কাছে সে দাবি করেছে, উদ্ধার হওয়া গুলিগুলো তার বাবার বৈধ লাইসেন্সধারী পিস্তলের।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, তার বাবা অত্যন্ত রাগী স্বভাবের। তিনি জানতে পারলে যে মেয়ে কারাগারে বন্দি প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গেছে, কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই সে বাবার পিস্তল থেকে গুলিগুলো সরিয়ে নিজের কাছে রেখেছিল বলে দাবি করেছে।

তবে পুলিশের কাছে দেওয়া এই বক্তব্য কতটা সত্য, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

 

এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে জাল আধার কার্ড ব্যবহার নিয়ে। কেন কিশোরী নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে কারাগারে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল এবং বন্দি প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় কেন ১০টি তাজা গুলি সঙ্গে রেখেছিল এসব বিষয় তদন্ত করছে পুলিশ।

কারাগার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। গুলিগুলো কীভাবে তার হাতে পৌঁছেছে এবং জাল পরিচয়পত্রের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ এখন কিশোরীর বক্তব্য, তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তির ভূমিকা এবং বন্দি হর্ষু কাশ্যপের সঙ্গে তাদের সম্পর্কসহ পুরো ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে।

গুলিগুলো সত্যিই তার বাবার লাইসেন্স করা অস্ত্র থেকে নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

সূত্র: এনডিটিভি

ChannelNRB Footer