কানাডায় অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ির মধ্যেই চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩ হাজার ৩২৩ জন ভারতীয় নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই সংখ্যা কানাডা থেকে বহিষ্কৃত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ভারতীয়দের শীর্ষে নিয়ে এসেছে। একই সময়ে মেক্সিকোসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকদেরও বিপুলসংখ্যায় ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কানাডা থেকে ৩ হাজার ৩২৩ জন ভারতীয় নাগরিককে অপসারণ করা হয়েছে। এই সংখ্যা ২০২৫ সালের পুরো বছরে বহিষ্কৃত ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যার প্রায় ৮৮ শতাংশের সমান। ২০২৫ সালে কানাডা থেকে ৩ হাজার ৭৭৯ জন ভারতীয় নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
অর্থাৎ বছরের প্রথমার্ধেই গত বছরের প্রায় সমান সংখ্যক ভারতীয় নাগরিককে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে ভারতীয় নাগরিকদের বহিষ্কারের সংখ্যা নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।
কানাডার সীমান্ত ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বর্তমানে দেশটিতে বৈধ অবস্থানের শর্ত কঠোরভাবে প্রয়োগ করছে। অভিবাসন আইন না মানা, বৈধ থাকার অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, আশ্রয় বা শরণার্থী আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া এবং ভিসা বা অভিবাসন-সংক্রান্ত শর্ত লঙ্ঘনের মতো কারণে বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বহিষ্কারের হিসাবে ভারতীয় নাগরিকরা কানাডায় সবচেয়ে বড় জাতীয় গোষ্ঠী হিসেবে উঠে এসেছে। এর আগে মেক্সিকোর নাগরিকদের সংখ্যা বেশি ছিল। নতুন পরিসংখ্যানে ভারতীয়দের বহিষ্কারের সংখ্যা মেক্সিকান নাগরিকদেরও ছাড়িয়ে গেছে।
কানাডায় ভারতীয় নাগরিকদের বড় একটি অংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, অস্থায়ী কর্মী এবং স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারী। ফলে দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রভাব ভারতীয় সম্প্রদায়ের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ছে।
কানাডা গত কয়েক বছরে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমানো এবং অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর চাপ নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের ২০২৬–২০২৮ অভিবাসন পরিকল্পনাতেও নতুন অস্থায়ী বাসিন্দা ও স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য রয়েছে।
দেশটির আবাসন সংকট, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য জনসেবার ওপর চাপ এবং শ্রমবাজারের ভারসাম্য নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই অভিবাসন ব্যবস্থায় এই কঠোরতা এসেছে।
সূত্র: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
আরও পড়ুন:







