News Ticker
221.png

কানাডায় জরুরি অবস্থা, দুই শহরের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৫৪

শেয়ার

শেয়ার

কানাডায় জরুরি অবস্থা, দুই শহরের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত

ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া Bald Range wildfire-এর কারণে প্রদেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। আগুনের ভয়াবহতা এতটাই বেড়েছে যে সামারল্যান্ড ও পিচল্যান্ড এলাকার ২০ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বহু পরিবারকে রাতারাতি ঘর ছাড়তে হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। কানাডার কেন্দ্রীয় সরকারও ব্রিটিশ কলাম্বিয়াকে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় আগুনের সূত্রপাতের পর অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এর বিস্তার ঘটে। তীব্র বাতাস, প্রচণ্ড গরম ও দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়া আগুনকে আরও ভয়ংকর করে তোলে।

কর্তৃপক্ষের হিসাবে, আগুনের বিস্তৃতি দ্রুত বেড়ে ১০ হাজার হেক্টরেরও বেশি এলাকায় পৌঁছেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

স্থানীয় কর্মকর্তারা আগুনের গতিকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও বিস্ফোরণধর্মী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আগুনের তীব্রতার কারণে নতুন নতুন এলাকায় দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করতে হয়েছে।

আগুনের সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে ওকানাগান লেকের তীরবর্তী সামারল্যান্ড ও পিচল্যান্ডে।

সামারল্যান্ড শহরের প্রায় ১২ হাজার বাসিন্দাকে পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পিচল্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় আরও প্রায় ৮ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অনেক বাসিন্দাকে দ্রুত গাড়িতে করে এলাকা ছাড়তে হয়েছে। আবার আগুনের কারণে আটকে পড়া কয়েকজনকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দাবানলের কারণে বেশ কিছু বাড়িঘর ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। তবে আগুনের তীব্রতার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো করা সম্ভব হয়নি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের সক্রিয় এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য প্রাণহানির একটি ঘটনাও তদন্ত করা হচ্ছে।

পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রাদেশিক সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। এর ফলে কর্তৃপক্ষ জরুরি সম্পদ ও জনবল দ্রুত মোতায়েন, চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ এবং বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্ষমতা পেয়েছে।

প্রাদেশিক সরকারের পাশাপাশি ফেডারেল সরকারও সহায়তায় এগিয়ে এসেছে।

কানাডার জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী এলিনর ওলসজেউস্কি জানিয়েছেন, বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় ও আবাসনের ব্যবস্থা করতে কেন্দ্রীয় সরকার ব্রিটিশ কলাম্বিয়াকে সহায়তা দেবে।

দাবানলের কারণে গুরুত্বপূর্ণ Highway 97 বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও জরুরি সেবাকর্মীদের চলাচলেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

সরিয়ে নেওয়া বাসিন্দাদের জন্য বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। জরুরি কর্তৃপক্ষ মানুষকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার এবং আগুনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ফিরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

Bald Range wildfire-এর ভয়াবহতা এতটাই বেড়েছে যে এটি নিজস্ব আবহাওয়াও তৈরি করছে। আগুনের তীব্র উত্তাপ ও ধোঁয়ার কারণে বজ্রপাতসহ অস্থির আবহাওয়া সৃষ্টি হচ্ছে, যা আগুনের বিস্তার আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচণ্ড গরম, শুষ্ক পরিবেশ ও শক্তিশালী বাতাস একসঙ্গে কাজ করায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

আগুনের গতিপথ এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ আরও এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি থেকে দূরে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার এই পরিস্থিতি কানাডার চলতি বছরের দাবানল মৌসুমের ভয়াবহতাকে আবারও সামনে এনেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক প্রচেষ্টা চললেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer