নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় কানো রাজ্যে একসঙ্গে ১ হাজার ৫০০ দম্পতির গণবিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার আয়োজিত এই বিশাল বিবাহ অনুষ্ঠানকে ঘিরে কানোজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। নিম্নআয়ের পরিবার, বিধবা, বিবাহবিচ্ছিন্ন নারী ও তরুণীদের আর্থিক সহায়তা এবং সামাজিকভাবে পুনর্বাসনের লক্ষ্যেই রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়।
কানো রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এই গণবিবাহ কর্মসূচি পরিচালনা করে রাজ্যের হিসবাহ বোর্ড। রাজ্যের ৪৪টি স্থানীয় সরকার এলাকা থেকে নির্বাচিত দম্পতিরা এতে অংশ নেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিয়ের ব্যয় বহন করতে না পারা অনেক পরিবারের জন্য এই কর্মসূচি বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে কাজ করছে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা, ধর্মীয় রীতি এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেই দম্পতিদের বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গণবিবাহে অংশ নেওয়া প্রতিটি কনেকে ২ লাখ নাইরা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সময়ের বিনিময় হারের ওপর। এই অর্থের একটি অংশ দেনমোহর এবং বাকি অংশ নতুন সংসার শুরুর মূলধন হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
এর পাশাপাশি নবদম্পতিদের ঘর সাজানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রীও দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ছিল বিয়ের পর যাতে দম্পতিদের অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ের আর্থিক নিরাপত্তা থাকে।
এই গণবিবাহে অংশ নেওয়া অনেক নারী আগে স্বামী হারিয়েছেন অথবা বিবাহবিচ্ছেদের পর একা ছিলেন। তাদের জন্য অনুষ্ঠানটি শুধু বিয়ের আয়োজন নয়, বরং নতুন করে সংসার শুরু করার সুযোগও তৈরি করেছে।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও ছিলেন, যারা সাম্প্রতিক সহিংসতায় পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন। তাদের জন্য এই বিয়ে ছিল জীবনের কঠিন অধ্যায়ের পর নতুনভাবে পথচলার একটি সুযোগ।
উত্তর নাইজেরিয়ায় বিয়ের অনুষ্ঠান ও আনুষঙ্গিক খরচ অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য এই ব্যয় অনেক সময় বিয়েকে দীর্ঘদিন পিছিয়ে দেয়।
কানো রাজ্য সরকার মনে করছে, রাষ্ট্রীয় সহায়তায় গণবিবাহের আয়োজন করলে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মানুষ সহজে সংসার শুরু করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি পরিবার ও সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী করাও এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
কানো রাজ্যের গভর্নর আব্বা কাবির ইউসুফ নবদম্পতিদের পারস্পরিক সম্মান, ন্যায়বিচার ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংসার পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন।
সরকারের বক্তব্য, এমন কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা বাড়ানো সম্ভব। অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পরিবার গঠনে সরকারি সহায়তা অনেক মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গণবিবাহে অংশগ্রহণকারী দম্পতিদের বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দম্পতিদের জন্য কাউন্সেলিং বা পরামর্শের ব্যবস্থাও ছিল।
এর মাধ্যমে বিয়ের আগে পারস্পরিক বোঝাপড়া, পারিবারিক দায়িত্ব এবং সংসার পরিচালনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তুত করার চেষ্টা করা হয়।
এত বিপুলসংখ্যক দম্পতির একসঙ্গে বিয়ে হওয়ায় কানো শহর ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে নববধূ ও বরদের উপস্থিতি এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে বর্ণিল।
তবে এটি শুধু একটি বড় সামাজিক অনুষ্ঠান নয়; অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি সরকারি কর্মসূচি হিসেবেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
সব মিলিয়ে কানো রাজ্যের এই গণবিবাহ নাইজেরিয়ায় বড় ধরনের সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। এক অনুষ্ঠানে ১ হাজার ৫০০ দম্পতির বিয়ে যেমন বিরল দৃশ্য তৈরি করেছে, তেমনি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য সরকারি সহায়তার বিষয়টিও সামনে এনেছে।
সূত্র: আফ্রিকা নিউজ
আরও পড়ুন:







