News Ticker
221.png

রাশিয়ায় নতুন করে ৫০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে উত্তর কোরিয়া: জেলেনস্কি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৫৩

শেয়ার

শেয়ার

রাশিয়ায় নতুন করে ৫০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে উত্তর কোরিয়া: জেলেনস্কি
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ায় নতুন করে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার ভাষ্য, মস্কো ও পিয়ংইয়ং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং নতুন এই সেনা মোতায়েন ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

রোববার দেওয়া এক বক্তব্যে জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ায় উত্তর কোরীয় সেনার সংখ্যা আগের হিসাবের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। এর আগে ইউক্রেনীয় পক্ষ প্রায় ৩০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫০ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।

জেলেনস্কির দাবি অনুযায়ী, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সামরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়ার ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার সেনা রাশিয়ার ভূখণ্ডে পাঠানো হতে পারে।

তবে এসব সেনা সরাসরি ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নেবে, নাকি রাশিয়ার ভূখণ্ডে বিভিন্ন সামরিক ও নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করবে—এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি জেলেনস্কি।

রয়টার্স জানিয়েছে, জেলেনস্কি এই তথ্যের উৎস হিসেবে গোয়েন্দা তথ্যের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে রাশিয়া বা উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সম্পৃক্ততা নতুন নয়। ইউক্রেনীয় ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছিল।

প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ১১ থেকে ১৪ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা রাশিয়ায় পাঠানোর তথ্য প্রকাশ্যে আসে। তাদের একটি বড় অংশ রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে রুশ সেনাদের সঙ্গে কাজ করেছে বলে পশ্চিমা দেশ ও ইউক্রেন দাবি করে।

জেলেনস্কির সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন করে আরও বড় একটি বাহিনী রাশিয়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জেলেনস্কি বলেছেন, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে সহায়তার বিনিময়ে আধুনিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। বিশেষ করে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা নেওয়াই পিয়ংইয়ংয়ের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করেন তিনি।

তার দাবি, রাশিয়ার কাছ থেকে সামরিক প্রযুক্তি ও যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়াতে পারে। এতে ভবিষ্যতে পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জেলেনস্কি আরও জানিয়েছেন, ইউক্রেনের ভূখণ্ডে উত্তর কোরিয়ার তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে মস্কো-পিয়ংইয়ং সামরিক সহযোগিতার মাত্রা আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেছে কিয়েভ।

ইউক্রেনীয় পক্ষের দাবি, উত্তর কোরিয়া শুধু জনবল নয়, রাশিয়াকে গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ সামরিক সরঞ্জামও সরবরাহ করছে।

উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছেও সহায়তা চেয়েছেন জেলেনস্কি।

বিশেষ করে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ড্রোন প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতেও দুই দেশের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

রাশিয়ার পক্ষে উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন ইউক্রেন যুদ্ধের আন্তর্জাতিক মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এত বড় একটি বিদেশি সামরিক বাহিনী রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় যুক্ত হলে রুশ বাহিনীর ওপর জনবলসংক্রান্ত চাপ কিছুটা কমতে পারে এবং ইউক্রেনের জন্য নতুন সামরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

একই সঙ্গে এতে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপীয় দেশসহ রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার বিরোধী দেশগুলোর মধ্যে নতুন কূটনৈতিক ও সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer