ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নতুন কোনো পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই শেষ করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে Wall Street Journal জানিয়েছে, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করে, তাহলে নতুন পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই যুদ্ধ শেষ করে বিজয় ঘোষণা করতে পারেন ট্রাম্প।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প বিষয়টি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় তুলেছেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে যুদ্ধের অবসান এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার পর এই বিকল্প সামনে এসেছে।
ট্রাম্পের বিবেচিত পরিকল্পনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দেওয়া। মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় একটি অংশ পরিবহন করা হয়।
তাই প্রণালিটি বন্ধ বা সীমিত থাকলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের আগে হরমুজ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহন হতো।
ট্রাম্পের নতুন অবস্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি না হলেও যুদ্ধের অবসান ঘটানোর সম্ভাবনা।
এর অর্থ দাঁড়ায়, যুদ্ধ থামানো এবং হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টি আগে সমাধান করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জটিল প্রশ্নটি পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হতে পারে।
তবে এটি এখনো চূড়ান্ত মার্কিন নীতি বা আনুষ্ঠানিক চুক্তি নয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য একটি বিকল্প হিসেবে বিষয়টি সামনে এসেছে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানও বেশ কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মার্কিন হুমকি ও অবরোধ বন্ধ, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন বন্ধ এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড়ের মতো বিষয় দাবি করছে।
এ কারণে হরমুজ পুনরায় পুরোপুরি চালু করা সহজ কোনো সমঝোতার বিষয় নয়। দুই পক্ষের দাবির মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান এখনো রয়েছে।
বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা চলছে না। বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের সঙ্গে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের নতুন রুট নির্ধারণ নিয়ে ইরানের আলোচনা এগিয়েছে। তবে এর সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শর্তগুলো এখনো বড় বাধা হয়ে আছে।
ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপও বাড়ছে। যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানি বাজার, মূল্যস্ফীতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর পড়ছে।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের পর ট্রাম্প এমন একটি পথ খুঁজছেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে পারে এবং একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে এটিকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে পারে।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের সামনে এখন একটি সম্ভাব্য সমঝোতার পথ রয়েছে—হরমুজ খুলে দেওয়া, যুদ্ধ বন্ধ করা এবং পারমাণবিক ইস্যু পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া।
তবে ইরানের শর্ত, হরমুজের নিরাপত্তা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের গভীর মতপার্থক্যের কারণে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







