সুটকেসের ভেতরে মানুষের মরদেহের খণ্ডাংশ—এমন খবর পেয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের ওলেন এলাকায়। পুলিশও ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড ধরে তদন্ত শুরু করে। তবে ফরেনসিক পরীক্ষার পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—সুটকেসের ভেতরে কোনো মানুষের মরদেহ ছিল না, ছিল মানুষের অবিকল আদলে তৈরি একটি প্রাপ্তবয়স্কদের পুতুল।
রোববার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে ওলেনের একটি গ্রামীণ সড়কের পাশে পড়ে থাকা সুটকেস দেখতে পান দুই ব্যক্তি। সুটকেসটি দেখে তাদের সন্দেহ হলে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশও ভেতরের বস্তুটিকে মানুষের দেহের মতো মনে করে।
সুটকেসের ভেতরের বস্তুটি মানুষের শরীরের মতো দেখতে হওয়ায় পুলিশ প্রথমে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল সুরক্ষিত করা হয় এবং ফরেনসিক কর্মকর্তাদের সেখানে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, সম্ভাব্য মরদেহের ক্ষেত্রে ঘটনাস্থল নাড়াচাড়া না করে প্রমাণ সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সুটকেসটি সতর্কতার সঙ্গে জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা যায়, সুটকেসের ভেতরে থাকা বস্তুটি কোনো মানুষের দেহ নয়। সেটি ছিল অত্যন্ত বাস্তবসম্মত দেখতে একটি প্রাপ্তবয়স্কদের পুতুল।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পুতুলটির শরীরে পোশাক ছিল, মাথায় চুল ছিল এবং নাকে ছিল পিয়ার্সিং। শুধু তা-ই নয়, শরীরে এমন কিছু দাগও ছিল, যা দেখতে মানুষের শরীরের কালশিটে বা আঁচড়ের চিহ্নের মতো মনে হচ্ছিল। এসব কারণেই প্রথম দেখায় সেটিকে মানুষের মরদেহ বলে মনে হয়েছিল।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট লিন্ডা ব্র্যাডবেরি জানান, পুতুলটি এতটাই বাস্তবসম্মত ছিল যে সেটিকে মানুষের মরদেহ ভেবে ভুল হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কাজ করেছে। সম্ভাব্য মরদেহের খবর পেলে সেটি সত্যিই মানুষের দেহ কি না নিশ্চিত হওয়ার আগে পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করতে হয়।
রোববার সুটকেস উদ্ধারের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হলেও সোমবার সকালে ফরেনসিক পরীক্ষার ফল হাতে আসে। পরীক্ষায় মানুষের কোনো দেহাবশেষ পাওয়া যায়নি।
এরপর পুলিশ নিশ্চিত করে, এটি কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নয় এবং সুটকেসের ভেতরের বস্তুটি একটি জীবনঘনিষ্ঠ পুতুল। এর মধ্য দিয়ে সম্ভাব্য হত্যা নিয়ে শুরু হওয়া তদন্তেরও সমাপ্তি ঘটে।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত পুতুল দূর থেকে কিংবা অল্প আলোতে মানুষের দেহের সঙ্গে গুলিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে পোশাক, চুল ও শরীরের বিভিন্ন চিহ্ন থাকলে বিভ্রান্তি আরও বাড়তে পারে।
এ ঘটনায় সুটকেসের ভেতরের পুতুলটির শরীরে থাকা দাগগুলোও পুলিশকে প্রাথমিকভাবে আরও সতর্ক করে তুলেছিল।
সূত্র: বিবিসি
আরও পড়ুন:







