News Ticker
221.png

পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে রাশিয়া, সতর্ক করলেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৫৬

শেয়ার

শেয়ার

পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে রাশিয়া, সতর্ক করলেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়ে রুশ ভূখণ্ডের গভীরে হামলা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেতে পারে, যেখানে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের মতো চরম পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠক ও রাশিয়া সফরের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ফিদান বলেছেন, যুদ্ধের সম্মুখভাগের পাশাপাশি রাশিয়ার অভ্যন্তরেও যদি ক্ষয়ক্ষতি ও চাপ বাড়তে থাকে, তাহলে মস্কোর সামনে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রশ্নটি অস্তিত্বের প্রশ্নে পরিণত হতে পারে। তখন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের মতো ‘শেষ অবলম্বন’ বিবেচনায় আসতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

ফিদানের বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে ড্রোন ও অন্যান্য অস্ত্র দিয়ে হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন, যুদ্ধের এই ধারাবাহিকতা উভয় পক্ষের জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে রাশিয়ার ভেতরে হামলা বাড়লে দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের ওপর চাপ আরও তীব্র হতে পারে।

ফিদানের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধ যখন শুধু সম্মুখযুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না এবং একটি দেশের অভ্যন্তরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি শুরু হয়, তখন পরিস্থিতির চরিত্র বদলে যায়।

তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এমন পরিস্থিতিতে কোনো রাষ্ট্র যদি মনে করে তার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে, তাহলে প্রচলিত অস্ত্রের বাইরে আরও ভয়াবহ বিকল্প বিবেচনা করতে পারে। রাশিয়ার ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের দিকে যেতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত জুনে রাশিয়া সফর করেন। মস্কো সফরে তিনি রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। আলোচনায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ গুরুত্ব পায়।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রাশিয়া ভবিষ্যতে বিপুলসংখ্যক নতুন সেনা সংগ্রহ বা সমাবেশের পরিকল্পনা করছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েক লাখ নতুন সেনা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনা থাকতে পারে।

জেলেনস্কির দাবি, এ ধরনের সম্ভাব্য সেনা সমাবেশ শুধু ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নয়, পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর মানসিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফিদানের সতর্কবার্তার মূল বার্তা হলো—যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ভুল হিসাব বা অতিরিক্ত উত্তেজনার ঝুঁকিও তত বাড়বে। বিশেষ করে দুই পক্ষের হামলা যদি আরও গভীরে পৌঁছে যায়, তাহলে সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

তাই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার আগেই যুদ্ধ বন্ধ এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা প্রয়োজন বলে মনে করছে তুরস্ক।

সূত্র: দা সান

ChannelNRB Footer