থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কাছে ননথাবুরি প্রদেশে একটি সরকারি কার্যালয়ের ভেতরে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে এক সরকারি কর্মকর্তাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সাবেক এক এমপির বিরুদ্ধে। সোমবার (১০ আগস্ট) স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে ননথাবুরি প্রাদেশিক প্রশাসনিক সংস্থার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক সংসদ সদস্য চালং রিয়েওরাং গুলি চালান। এতে সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী থংচাই ইয়েনপ্রাসার্ট গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় থংচাইয়ের গাড়িচালকও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চালং ননথাবুরি প্রাদেশিক প্রশাসনিক সংস্থার কার্যালয়ে প্রবেশ করে থংচাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি চালান।
গুলিতে থংচাইয়ের মুখ ও ঘাড়ে আঘাত লাগে। তার গাড়িচালকও হাতে গুলিবিদ্ধ হন। আহত দুজনকেই দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে থংচাইকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে হামলার পেছনে ব্যক্তিগত আর্থিক বিরোধ থাকার কথা উঠে এসেছে।
এপি জানিয়েছে, চালং পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, থংচাইয়ের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছিল। কথিত ওই আর্থিক বিরোধের জেরেই তিনি সরকারি কার্যালয়ে গিয়ে হামলা চালান।
তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ ও অর্থ লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে। অভিযুক্তের বক্তব্যের সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে না গিয়ে চালং পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রসহ সংশ্লিষ্ট আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্র-সংক্রান্ত আইনে মামলা হতে পারে।
চালং রিয়েওরাং ননথাবুরি এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য। রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকার পর তিনি বর্তমানে সংসদের সদস্য ছিলেন না।
একজন সাবেক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সরকারি কার্যালয়ে গিয়ে গুলি চালানোর অভিযোগ থাইল্যান্ডে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের মধ্যে একই প্রদেশে আরেকটি প্রাণঘাতী গুলির ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
চালংয়ের গুলির ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন ননথাবুরি প্রদেশে কয়েক দিন আগেই আরেকটি ভয়াবহ বন্দুক হামলা হয়েছিল। ওই ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর গুলি চালিয়ে কয়েকজনকে হত্যা করে এবং পরে আত্মহত্যা করে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
পরপর এসব ঘটনায় থাইল্যান্ডে প্রকাশ্য স্থানে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এবং বন্দুক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সাম্প্রতিক একাধিক গুলির ঘটনার পর থাই সরকার অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা বাড়ানো, অস্ত্র শনাক্তকরণ ব্যবস্থা জোরদার এবং জনসমাগমস্থলে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগের বিষয়গুলো সামনে এসেছে।
থাইল্যান্ডে বেসামরিক মানুষের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রের উপস্থিতি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য অনেক দেশের তুলনায় বেশি। ফলে ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘাতেও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, সাবেক এমপি চালং কেন সরকারি কার্যালয়ে গিয়েছিলেন এবং থংচাইয়ের সঙ্গে তার ঠিক কী ধরনের বিরোধ ছিল।
ব্যক্তিগত আর্থিক বিরোধের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সামনে এলেও হামলার পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হামলার আগে অভিযুক্ত ও নিহত কর্মকর্তার মধ্যে কোনো যোগাযোগ হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।
একজন সাবেক সংসদ সদস্যের মতো পরিচিত ব্যক্তি সরকারি কার্যালয়ে ঢুকে গুলি চালানোর ঘটনায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







