রাশিয়ার তাতারস্তান অঞ্চলের নিঝনেকামস্ক শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ও শিল্পাঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ। রুশ আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) ভোরে নিঝনেকামস্কে এই হামলা চালানো হয়। শহরটি রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিশোধন ও পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্র। হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল তাতনেফট পরিচালিত তানেকো (TANECO) তেল শোধনাগার।
রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোন হামলায় তেল শোধনাগারসহ আশপাশের শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে একটি আবাসিক হোস্টেলও হামলার শিকার হয়। নিহতদের বড় একটি অংশ ওই হোস্টেলে অবস্থান করছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত ১৩ জনের মধ্যে কয়েকজন মধ্য এশিয়ার নাগরিক রয়েছেন এবং একটি শিশুও নিহত হয়েছে। আহতের সংখ্যা অন্তত ৩৯ বলে রুশ কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে।
নিঝনেকামস্ক ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে অনেক দূরে রাশিয়ার অভ্যন্তরে অবস্থিত। তাতারস্তানের এই অঞ্চলটি রাশিয়ার জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেন এর আগেও রাশিয়ার গভীরে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।
রুশ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর জরুরি পরিষেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কাজ করেন। রাশিয়ার পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে অভিহিত করে তদন্ত শুরু করার কথাও জানানো হয়েছে।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর বিষয়টি তাদের বৃহত্তর সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিয়েভের যুক্তি, রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি অবকাঠামো দেশটির যুদ্ধ পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
এই হামলা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের চার বছরের বেশি সময়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডে সংঘটিত অন্যতম প্রাণঘাতী ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তাতারস্তানের নিঝনেকামস্কের তানেকো শোধনাগার এর আগেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার লক্ষ্য হয়েছে। ফলে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিশোধন ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবেই সর্বশেষ ঘটনাটিকে দেখা হচ্ছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ডের গভীরে হামলা বাড়িয়েছে। ফলে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি জ্বালানি, শিল্প ও পরিবহন অবকাঠামোও সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স,
আরও পড়ুন:







