News Ticker
221.png

লিবিয়ায় গাড়িবোমা হামলায় সামরিক গোয়েন্দা প্রধান নিহত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৫৮

শেয়ার

শেয়ার

লিবিয়ায় গাড়িবোমা হামলায় সামরিক গোয়েন্দা প্রধান নিহত
ছবি: সংগৃহীত

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে সামরিক গোয়েন্দা প্রধান ব্রিগেডিয়ার ফওজি মানসুরি নিহত হয়েছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় পূর্ব লিবিয়ার প্রধান শহর বেনগাজিতে তার নিজ বাড়ির বাইরে এ বিস্ফোরণ ঘটে। নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানায়, বেনগাজির আল-হাওয়ারি এলাকায় মানসুরির গাড়িতে একটি বিস্ফোরক ডিভাইস বিস্ফোরিত হয়। ঘটনায় তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন বলে জানা গেছে। তবে হামলায় ব্যবহৃত বিস্ফোরকের ধরন কিংবা কীভাবে সেটি গাড়িতে স্থাপন করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফওজি মানসুরি পূর্ব লিবিয়ার সামরিক বাহিনী বা লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (LNA) সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বাহিনীটি সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন এবং দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে।

তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন এখন পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার করেনি। নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে।

মানসুরিকে হত্যার ঘটনা লিবিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর দেশটিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব অব্যাহত রয়েছে।

২০১৪ সালে লিবিয়া কার্যত পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ২০২০ সালের যুদ্ধবিরতিতে বড় ধরনের সংঘাত থামলেও দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসনের প্রভাব এখনো বিদ্যমান।

খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি পূর্ব ও দক্ষিণ লিবিয়ার বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ন্যাশনাল ইউনিটি সরকারের সদর দপ্তর রাজধানী ত্রিপোলিতে এবং এর প্রভাব মূলত পশ্চিমাঞ্চলে।

এই বিভক্ত রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোর কারণে দেশটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো ভঙ্গুর। সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

মানসুরির হত্যাকাণ্ডের পর হামলার ধরন, বিস্ফোরক ডিভাইসের উৎস এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে হামলার উদ্দেশ্য বা সম্ভাব্য হামলাকারী সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

লিবিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের মধ্যেই সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তার এই হত্যাকাণ্ড ঘটল। হামলার সঙ্গে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক পক্ষের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

সূত্র: রয়টার্স, 

ChannelNRB Footer