News Ticker
221.png

চীনের ইউনান প্রদেশে এক ব্যক্তির পেট থেকে মিলল ১৮০টি লোহার পেরেকসহ কয়েন, স্ক্রু, নাট ও চুম্বক

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৩৮

শেয়ার

শেয়ার

চীনের ইউনান প্রদেশে এক ব্যক্তির পেট থেকে মিলল ১৮০টি লোহার পেরেকসহ কয়েন, স্ক্রু, নাট ও চুম্বক
ছবি: সংগৃহীত

চীনের ইউনান প্রদেশে এক ব্যক্তির পেট থেকে ১৮০টি লোহার পেরেকসহ কয়েন, স্ক্রু, নাট ও চুম্বক মিলিয়ে এক কেজির বেশি ধাতব বস্তু বের করেছেন চিকিৎসকরা। দীর্ঘদিন ধরে এসব ধাতব বস্তু গিলে ফেলার পর ওই ব্যক্তি বারবার বমি ও পেটব্যথায় ভুগছিলেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে পরীক্ষায় ভয়াবহ এই ঘটনা ধরা পড়ে।

চীনের ইউনান প্রদেশের থার্ড পিপলস হাসপাতালের চিকিৎসকরা ওই ব্যক্তির পেটে বিপুল পরিমাণ ধাতব বস্তুর উপস্থিতি শনাক্ত করেন। ইমেজিং পরীক্ষায় দেখা যায়, ধাতব বস্তুগুলো একসঙ্গে জমাট বেঁধে পাকস্থলীর ভেতরে বড় একটি পিণ্ডের মতো তৈরি হয়েছে। এতে পাকস্থলী অস্বাভাবিকভাবে প্রসারিত হয়ে নিচের দিকে নেমে গিয়েছিল।

চিকিৎসকদের মতে, উদ্ধার করা ধাতব বস্তুর মধ্যে ছিল ১৮০টি পেরেক, কয়েন, স্ক্রু, নাট ও চুম্বক। একটি পেরেকের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১০ সেন্টিমিটার। সব মিলিয়ে এসব বস্তুর ওজন এক কেজিরও বেশি।

ধাতব বস্তুগুলো বের করতে চিকিৎসকদের প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার করতে হয়। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা জানান, রোগীর পাকস্থলীতে আলসার ও ক্ষয় তৈরি হয়েছিল।

তবে আশ্চর্যজনকভাবে এতগুলো ধারালো পেরেক থাকা সত্ত্বেও কোনো পেরেক পাকস্থলীর দেয়াল ভেদ করে বাইরে বের হয়নি এবং অন্ত্রেও প্রবেশ করেনি। চিকিৎসকদের ধারণা, পেটে থাকা চুম্বকগুলো পেরেক ও অন্যান্য ধাতব বস্তু একসঙ্গে আটকে রাখতে ভূমিকা রেখেছিল।

রোগীর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির দীর্ঘদিনের মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস রয়েছে। তবে তিনি কেন এত বিপুল পরিমাণ পেরেক ও অন্যান্য ধাতব বস্তু গিলে ফেলেছিলেন, তা জানা যায়নি। চিকিৎসকরাও এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করেননি।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে এর আগে পেরেক, তার ও অন্যান্য অখাদ্য বস্তু গিলে ফেলার রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে একসঙ্গে ১৮০টি পেরেক গিলে ফেলার ঘটনা তাদের জন্য নজিরবিহীন।

চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, ছোট কোনো বস্তু গিলে ফেললে সেটি নিজে থেকেই শরীর থেকে বের হয়ে যাবে—এমন ধারণা নিরাপদ নয়। বিশেষ করে ধাতব বা ধারালো বস্তু খাদ্যনালির সরু অংশে আটকে গিয়ে অভ্যন্তরীণ আঘাত, রক্তপাত কিংবা পাকস্থলী ও অন্ত্রে ছিদ্র তৈরি করতে পারে।

এ ধরনের জটিলতা থেকে পেরিটোনাইটিসসহ প্রাণঘাতী সংক্রমণও হতে পারে। তাই কেউ দুর্ঘটনাবশত বা ইচ্ছাকৃতভাবে ধাতব বা অন্য কোনো অখাদ্য বস্তু গিলে ফেললে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

অস্ত্রোপচারের পর ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তিনি বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

সূত্র: দ্য স্ট্যান্ডার্ড

ChannelNRB Footer