News Ticker
221.png

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০৭

আপডেট: ১১ আগস্ট, ২০২৬ ২১:২৩

শেয়ার

শেয়ার

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত তার বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, নির্যাতন, নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এই রায় দেন। তবে রায় ঘোষণার সময় আসাদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি বর্তমানে রাশিয়ায় নির্বাসনে রয়েছেন।

সিরিয়ার প্রায় ১৪ বছরব্যাপী গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের দায়ে এটিই বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে প্রথম বড় ধরনের বিচারিক রায়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বিদ্রোহীদের আকস্মিক অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি সিরিয়া ছেড়ে রাশিয়ায় আশ্রয় নেন।

আদালতের রায় অনুযায়ী, বাশার আল-আসাদকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, নির্যাতন, নির্বিচার আটক এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। যেহেতু তিনি সিরিয়ার বাইরে অবস্থান করছেন, তাই তার বিরুদ্ধে বিচার ও মৃত্যুদণ্ড অনুপস্থিতিতেই কার্যকর করা হয়েছে।

আসাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মূলত তার শাসনামলে সংঘটিত সহিংসতা ও দমন-পীড়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০১১ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘাতের সময় সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক হত্যা, নির্যাতন, আটক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।

একই মামলায় বাশার আল-আসাদের ছোট ভাই মাহের আল-আসাদ এবং সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আতেফ নাজিব ছিলেন আসাদের চাচাতো ভাই এবং ২০১১ সালে দেরায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে তিনজনের মধ্যে আতেফ নাজিবই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাশার ও মাহের আল-আসাদ দুজনই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

বাশার আল-আসাদ প্রায় ২৪ বছর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় ছিলেন। ২০২৪ সালের শেষ দিকে বিদ্রোহী বাহিনী দ্রুতগতিতে রাজধানী দামেস্কের দিকে অগ্রসর হলে তার সরকারের পতন ঘটে। এরপর তিনি সিরিয়া ছেড়ে রাশিয়ায় চলে যান এবং সেখানে আশ্রয় পান।

আসাদের পতনের মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় তার পরিবারের কয়েক দশকের শাসনের অবসান ঘটে। এরপর নতুন কর্তৃপক্ষ সাবেক সরকারের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা ও তদন্ত শুরু করে।

সিরিয়ার নতুন শাসকগোষ্ঠী এই বিচারকে দীর্ঘদিনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে। রায় ঘোষণার পর রাজধানী দামেস্কসহ কয়েকটি এলাকায় মানুষকে উদযাপন করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে দেরায় আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে মানুষের সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে।

২০১১ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত দেরায় এই রায়ের প্রতিক্রিয়া বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। সেখানে অনেকেই দীর্ঘদিনের নিপীড়নের জন্য সাবেক সরকারকে দায়ী করে আসছেন।

বাশার আল-আসাদ বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করায় আদালতের এই রায় বাস্তবায়ন নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। তাকে সিরিয়ায় ফিরিয়ে আনা বা প্রত্যর্পণ করানো সহজ হবে না। রায়ের ফলে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি ও কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।

এ ছাড়া কিছু আইন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর সাজা ভবিষ্যতে আসাদকে রাশিয়া থেকে সিরিয়ায় প্রত্যর্পণের প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করতে পারে। ফলে রায়টি রাজনৈতিক ও প্রতীকীভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর বাস্তবায়ন অনিশ্চিত।

বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় সিরিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একদিকে এটি আসাদ আমলের নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবারগুলোর কাছে জবাবদিহির প্রতীক; অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় রায় বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অতীতের অপরাধের বিচার করার পাশাপাশি এমন একটি বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিশোধের বদলে প্রমাণ, আইনের শাসন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer