News Ticker
221.png

নেপালে ৯ মাস পর মিলল ৫ পর্বতারোহীর মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২৬ ২১:২৯

শেয়ার

শেয়ার

নেপালে ৯ মাস পর মিলল ৫ পর্বতারোহীর মরদেহ
ছবি: সংগৃহীত

নেপালের ইয়ালুং রি পর্বতে তুষারধসে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় নয় মাস পর পাঁচ পর্বতারোহীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পাঁচজনের মধ্যে তিনজন বিদেশি পর্বতারোহী এবং দুজন নেপালি গাইড রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে বরফের নিচে চাপা পড়ে থাকার পর মৌসুমি তুষার গলতে শুরু করলে তাদের মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।

নেপালের দোলখা জেলার ইয়ালুং রি পর্বতে গত বছরের নভেম্বর মাসে একটি শক্তিশালী তুষারধসের পর পাঁচ পর্বতারোহী নিখোঁজ হন। দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড, তীব্র ঠান্ডা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তখন ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়েও তাদের সন্ধান পাওয়া সম্ভব হয়নি।

প্রায় নয় মাস পর চলতি বছরের আগস্টে পাহাড়ের বরফ ও তুষার গলতে শুরু করলে নিখোঁজ পর্বতারোহীদের মরদেহের অবস্থান শনাক্ত হয়। উদ্ধারকারী দল পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মরদেহগুলো পাহাড়ের বেস ক্যাম্পের কাছাকাছি এলাকায় পাওয়া যায়। তুষার গলে যাওয়ার ফলে দীর্ঘদিন ধরে চাপা থাকা মরদেহগুলো দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

উদ্ধার হওয়া পাঁচজনের মধ্যে তিনজন বিদেশি এবং দুজন নেপালি গাইড ছিলেন। বিদেশিদের মধ্যে একজন ইতালীয়, একজন ইতালীয়-কানাডীয় এবং একজন জার্মান নাগরিক ছিলেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তাদের সঙ্গে নেপালি গাইডরাও অভিযানে ছিলেন। তবে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেনি।

তুষারধসের পর নিখোঁজ পাঁচ পর্বতারোহীর সন্ধানে নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং স্থানীয় উদ্ধারকারী দল বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালায়। কিন্তু প্রচণ্ড তুষারপাত, প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম পাহাড়ি অবস্থানের কারণে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

উদ্ধারকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা ছিল পাহাড়ের ওপর জমে থাকা বিপুল পরিমাণ তুষার। দীর্ঘ সময় ধরে মরদেহগুলো বরফের নিচে চাপা থাকায় সেগুলো শনাক্ত করাও সম্ভব হয়নি।

মরদেহের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পরও সেগুলো দ্রুত নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। পাহাড়ি এলাকায় প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ এবং মরদেহ পরিবহনে সমস্যা দেখা দেয়।

উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা উচ্চতায় কাজ করায় তাদের নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। ফলে পুরো উদ্ধার প্রক্রিয়ায় সময় লাগছে।

হিমালয়ের দেশ নেপালে পর্বতারোহণ পর্যটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক পর্বতারোহী এভারেস্টসহ বিভিন্ন শৃঙ্গে অভিযান চালান। তবে উচ্চতার ঝুঁকি, তুষারধস, হিমবাহের পরিবর্তন ও আকস্মিক আবহাওয়া পর্বতারোহীদের জন্য বড় ধরনের বিপদ তৈরি করে।

ইয়ালুং রির এই ঘটনা আবারও হিমালয়ে পর্বতারোহণের ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতা সামনে এনেছে। দুর্গম এলাকায় দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের মরদেহ উদ্ধার করতে কখনো কখনো কয়েক মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট

ChannelNRB Footer