দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়েছে, হাজার হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন। অনেক মানুষ এখনো নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হিসাবে ২ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ভূমিকম্পে কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলসহ একাধিক শহরে আবাসিক ভবন, স্কুল, হাসপাতাল ও অন্যান্য স্থাপনা ধসে পড়েছে অথবা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পেরেইরা ও কালি শহরের মতো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকারীরা ক্রেন, খননযন্ত্র এবং হাতের সাহায্যে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের খুঁজছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কেউ থাকলে দ্রুত তাদের বের করে আনাই এখন উদ্ধারকারী দলের প্রধান লক্ষ্য।
ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। কোথাও বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়া দেশটির অন্তত ছয়টি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ বা কার্যক্রমে বিঘ্নের মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে। ফলে দুর্গত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার সরঞ্জাম পৌঁছানোতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।
ধ্বংসস্তূপে চলছে প্রাণের সন্ধান
ভূমিকম্পের পরপরই দেশটির জরুরি সেবা ও উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্গত এলাকায় পৌঁছে যায়। ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে আটকে থাকা মানুষের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা রাত-দিন কাজ করছেন।
অনেক এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় উদ্ধারকারীরা নিজেদের হাতেও ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করছেন।
ভূমিকম্পের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ, পানি ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহেও সময় লাগছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও চূড়ান্ত নয়।
ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর কলম্বিয়ার উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও আসতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৫.৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এ ছাড়া ইন্টার-আমেরিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তার কথা জানিয়েছে।
এই সহায়তা জরুরি চিকিৎসা, উদ্ধারকাজ, আশ্রয় এবং পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমে ব্যবহার করা হতে পারে।
কলম্বিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। বিশেষ করে যেসব ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে, সেসব স্থানে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান করা হচ্ছে।
উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একের পর এক মানুষকে জীবিত ও মৃত অবস্থায় বের করছেন। ফলে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা বলা সম্ভব নয়।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







