হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, “এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হাতে।” চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মধ্যে ট্রাম্পের এই বক্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি এমন সময়ে এসেছে, যখন গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবরোধ ও ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন বাহিনী ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর অবরোধ কার্যকর করছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি জাহাজকে থামিয়ে দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় হরমুজ পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী বর্তমানে প্রণালিটির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখছে। তিনি মার্কিন অবরোধকে একটি ‘স্টিল ওয়াল’ বা ইস্পাতের দেয়াল হিসেবেও বর্ণনা করেন।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার কারণে ইরান এখন আর আগের মতো প্রণালির নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। ইরান দীর্ঘদিন ধরে এই জলপথের কৌশলগত অবস্থানকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ অবরোধ জোরদার করে প্রণালির মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, অবরোধ পুনর্বহালের পর ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং অন্তত দুটি জাহাজকে অকার্যকর করা হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবির বিপরীতে ইরান এখনো হরমুজ প্রণালি নিয়ে নিজেদের শর্তে অনড় রয়েছে। তেহরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র তার আচরণ সংশোধন না করা পর্যন্ত প্রণালির স্বাভাবিক চলাচল পুরোপুরি ফিরবে না।
এর আগে ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ দিয়ে নতুন নৌপথ নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা চলছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং জাহাজ চলাচল নিয়ে মতবিরোধ এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রণালিটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও দামে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে একটি পানামার পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ইরানি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে মার্কিন বাহিনী সেটিকে অকার্যকর করে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ঘটনাটি প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনার মাত্রা আরও বাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও হরমুজের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ এখনো বড় বিরোধের বিষয় হয়ে আছে। ওয়াশিংটন প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে চাইছে, আর তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দাবি ও সামরিক কর্মকাণ্ডের অবসানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
ফলে ট্রাম্পের সর্বশেষ ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ দাবির পরও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংকট শেষ হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আল জাজিরা
আরও পড়ুন:







