News Ticker
221.png

৩৮ বছর পর খুনের রহস্যে নতুন মোড়, নিজেই পুলিশের দ্বারস্থ অভিযুক্ত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:১৮

শেয়ার

শেয়ার

৩৮ বছর পর খুনের রহস্যে নতুন মোড়, নিজেই পুলিশের দ্বারস্থ অভিযুক্ত
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় চার দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড় এসেছে। ১৯৮৭ সালে ২০ বছর বয়সী তরুণী মেলিসা ‘টেলর’ এলিসন হত্যার ঘটনায় ৭০ বছর বয়সী গ্যারি এডওয়ার্ড গ্লোওয়াচকে গ্রেপ্তার করেছে জ্যাকসনভিল শেরিফের অফিস। দীর্ঘ ৩৯ বছর পর মামলাটিতে এই অগ্রগতি ঘটল।

ঘটনাটি ঘটে ১৯৮৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর ভোরে। জ্যাকসনভিলের কোলিজিন রোডের একটি বাড়িতে পুলিশকে মৃত ব্যক্তির খবর দেওয়া হলে তারা এলিসনকে তার বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে। তার শরীরে ছিল ভোঁতা বস্তু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন। একই সময়ে তার এক বছরের শিশুকে বসার ঘরের সোফায় কাঁদতে দেখা যায়।

এলিসন হত্যার পর জ্যাকসনভিল শেরিফের অফিসের হোমিসাইড ও ক্রাইম সিন ইউনিট তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারীরা বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনা করেন এবং একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কোনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মামলাটি ‘কোল্ড কেস’-এ পরিণত হয়।

এলিসন ছিলেন একজন তরুণ মা। তার হত্যার ঘটনায় পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিল। শিশুটিও তখন মায়ের মৃত্যুর পর ঘরে একা পড়ে ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

প্রায় চার দশক পর গত ৮ জুলাই ২০২৬ মামলাটিতে নাটকীয় পরিবর্তন আসে। গ্যারি গ্লোওয়াচ ক্লে কাউন্টি শেরিফের অফিসে ফোন করে জানান, এলিসনের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি তথ্য দিতে চান। পরে তাকে জ্যাকসনভিল শেরিফের অফিসে নিয়ে গিয়ে গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তকারীরা তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ডুভাল কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্লোওয়াচের বিরুদ্ধে হত্যা এবং হামলা বা ব্যাটারিসহ চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ এখনো হত্যার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য প্রকাশ করেনি।

অর্থাৎ, তিনি নিজে পুলিশের কাছে তথ্য দিতে যোগাযোগ করলেও তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিবরণে তার বক্তব্যের পুরো বিষয়বস্তু বা তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন কি না, তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। ফলে আদালতের সিদ্ধান্তের আগে তাকে ‘খুনি’ হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করা আইনগতভাবে ঠিক হবে না।

মামলাটি দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থাকার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এটি নিয়ে কাজ চালিয়ে যায়। জ্যাকসনভিল শেরিফের অফিস জানিয়েছে, ফার্স্ট কোস্ট ক্রাইম স্টপার্স, স্টেট অ্যাটর্নির অফিস, প্রজেক্ট কোল্ড কেস এবং ক্লে কাউন্টি শেরিফের অফিস মামলাটি আলোচনায় রাখতে এবং নতুন তথ্য খুঁজে পেতে সহযোগিতা করেছে।

গ্লোওয়াচের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ১৯৮৭ সালের এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নতুন করে গতি পেয়েছে। তবে হত্যার উদ্দেশ্য, ঘটনার বিস্তারিত এবং দীর্ঘ সময় পর কীভাবে তদন্তকারীরা তার কাছে পৌঁছালেন—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি।

প্রায় চার দশক ধরে রহস্যে ঢাকা থাকা এলিসন হত্যাকাণ্ডে এবার আদালতের প্রক্রিয়ার পাশাপাশি তদন্তকারীদের হাতে থাকা পুরোনো ও নতুন প্রমাণই নির্ধারণ করবে আসলেই কী ঘটেছিল এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির ভূমিকা কতটা ছিল।

ChannelNRB Footer