ইয়েমেনে ২০২৫ সালে মার্কিন সামরিক অভিযানে ১৫৩ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং আরও ২৪৩ জন আহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে পেন্টাগন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি মূল্যায়নের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ইয়েমেনে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা নিয়ে অনেক কম তথ্য দেওয়া হয়েছিল।
নতুন এই হিসাব সামনে আসার পর ইয়েমেনে মার্কিন বিমান হামলার বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৩ দিনের সামরিক অভিযান চলাকালে বেশ কয়েকটি হামলায় বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষের হতাহতের অভিযোগ উঠেছিল।
২০২৫ সালে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হুথিদের হামলা ঠেকানোর লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি ছিল, হুথিদের সামরিক সক্ষমতা ও নেতৃত্বের অবকাঠামো লক্ষ্য করেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তবে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় সূত্র সে সময় অভিযোগ করেছিল, মার্কিন হামলায় বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।
নতুন পরিসংখ্যানটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ২০২৪ সালে মার্কিন সামরিক অভিযানে মাত্র ২ জন বেসামরিক নিহত ও ২ জন আহত হওয়ার কথা সরকারি হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এক বছরের ব্যবধানে এই সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।
পেন্টাগনের হিসাবে ২০২৫ সালের সামরিক অভিযানে ইয়েমেনেই ১৫৩ বেসামরিক প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৪৩ জন। ফলে মোট বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইয়েমেনে বেসামরিক হতাহতের সম্ভাবনা রয়েছে—এমন আরও ১৫টি ঘটনা পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। এসব ঘটনার তদন্ত শেষ হলে নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে বেসামরিক হতাহতের তথ্য প্রকাশে দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সামরিক অভিযানের প্রকৃত মানবিক ক্ষয়ক্ষতি প্রকাশ করা এবং দায় নির্ধারণ করা জরুরি।
বিশেষ করে কয়েকটি বিমান হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির অভিযোগ ওঠার পরও মার্কিন কর্তৃপক্ষ শুরুতে বেসামরিক হতাহতের বিষয়টি অস্বীকার বা কম গুরুত্ব দিয়ে দেখেছিল বলে সমালোচনা রয়েছে।
পেন্টাগনের নতুন হিসাব প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েমেন অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হতে পারে। বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় সামরিক অভিযানের নিয়ম, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য ভুল হামলার বিষয়ে তদন্তের দাবি আরও জোরালো হতে পারে।
এদিকে ২০২৬ সালেও ইয়েমেন ও আশপাশের অঞ্চলে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ১১ আগস্ট হুথিরা লোহিত সাগরে একটি কার্গো জাহাজে হামলা চালায়। ওই ঘটনায় চারজন ক্রু ও দুই ইয়েমেনি উদ্ধারকর্মী নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে রয়টার্স।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







