News Ticker
221.png

আবারও উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:০২

শেয়ার

শেয়ার

আবারও উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের যৌথ সামরিক মহড়ার মাত্র কয়েক দিন আগে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। বুধবার (১২ আগস্ট) দেশটির পূর্ব উপকূলের ওনসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়। এটি সমুদ্রের দিকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জাপানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের (EEZ) বাইরে গিয়ে পড়েছে বলে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চলতি মাসে এটি উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। এর আগে ৬ আগস্টও একই ওনসান এলাকা থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। নতুন এই উৎক্ষেপণকে ঘিরে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর জাপান কূটনৈতিকভাবে উত্তর কোরিয়ার কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে। জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি ঘটনাটিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। জাপানের কর্মকর্তারা ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের ভূখণ্ড বা জলসীমায় পড়েনি বলে জানিয়েছেন।

জাপান সরকার একই সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ জোরদার করেছে। টোকিওর আশঙ্কা, উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি আঞ্চলিক উত্তেজনাও বাড়িয়ে তুলছে।

আগামী ১৭ আগস্ট থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক ‘আলচি ফ্রিডম শিল্ড’ যৌথ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দেখে আসছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, মহড়ার আগে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে পিয়ংইয়ং ওয়াশিংটন ও সিউলকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিতে চাইছে। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ওপর সামরিক চাপ বাড়ানোর বিরুদ্ধে এটি রাজনৈতিক বার্তাও হতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৭০০ কিলোমিটার উড়ে সমুদ্রে পড়েছে। এটি জাপানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে পড়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ক্ষেপণাস্ত্রের সুনির্দিষ্ট ধরন এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, উৎক্ষেপণটি তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করেনি। তবে ওয়াশিংটন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের প্রতিরক্ষার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

নতুন উৎক্ষেপণটি চলতি বছরে উত্তর কোরিয়ার ১১তম সন্দেহভাজন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এর আগে ৬ আগস্টের উৎক্ষেপণটিও ওনসান থেকে হয়েছিল এবং সেটি ব্যর্থ হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।

উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় দেশটির পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আবারও সামনে এসেছে। পিয়ংইয়ং অবশ্য এসব পরীক্ষাকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করে।

ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সিউল এটিকে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে নিন্দা করেছে এবং উত্তর কোরিয়ার সামরিক গতিবিধির ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন যৌথ মহড়ার আগে এ ধরনের উৎক্ষেপণ দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শুধু জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকেই নয়, পুরো পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের পাল্টা সামরিক তৎপরতাও বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামনে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া শুরু হলে উত্তর কোরিয়া আরও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বা সামরিক প্রদর্শন করতে পারে। ফলে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কমার পরিবর্তে আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer