News Ticker
221.png

ভারতে গোমূত্র কিনছে সরকার, লিটারপ্রতি ১০ রুপি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৩০

আপডেট: ১২ আগস্ট, ২০২৬ ২০:২৮

শেয়ার

শেয়ার

ভারতে গোমূত্র কিনছে সরকার, লিটারপ্রতি ১০ রুপি
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশে গোমূত্র সংগ্রহ করে কৃষিকাজে ব্যবহারের লক্ষ্যে একটি নতুন পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে। রাজ্যের বুলন্দশহর জেলার সায়ানা তহসিলের নরসেনা এলাকায় কৃষক ও গবাদিপশুর মালিকদের কাছ থেকে গোমূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি লিটার গোমূত্রের জন্য দেওয়া হচ্ছে ১০ রুপি।

প্রকল্পটি সফল হলে উত্তর প্রদেশের অন্যান্য এলাকাতেও এর বিস্তৃতি ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে সংগ্রহমূল্য লিটারপ্রতি ২০ রুপি পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ লিটার গোমূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর জন্য আশপাশের প্রায় ১৫টি গ্রামের সংগ্রহকেন্দ্র ব্যবহার করা হচ্ছে। গ্রামগুলোতে ২০০ লিটার ধারণক্ষমতার ট্যাংকও স্থাপন করা হয়েছে, যাতে পশুপালকদের দূরে গিয়ে গোমূত্র বিক্রি করতে না হয়।

প্রকল্পটির সঙ্গে প্রায় ৩০০ নারী যুক্ত রয়েছেন। সংগ্রহ ও সরবরাহের কাজে অংশ নেওয়া নারীদের প্রতি লিটারে কমিশন দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ফলে গ্রামীণ নারীদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।

সংগৃহীত গোমূত্র মূলত কৃষি উপকরণ তৈরিতে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতিতে রাসায়নিক উপকরণের ব্যবহার কমানোর লক্ষ্যে গোমূত্র থেকে বিভিন্ন কৃষি উপাদান ও কীটনাশকজাতীয় প্রস্তুতি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্পটির উদ্যোক্তাদের আশা, এর মাধ্যমে একদিকে কৃষিতে প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার বাড়বে, অন্যদিকে গবাদিপশু পালনকারী পরিবারগুলো দুধের পাশাপাশি গোমূত্র বিক্রি করেও অতিরিক্ত আয় করতে পারবে।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এর আগেও গোমূত্র ও গোবর সংগ্রহের সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছত্তিশগড়ে ২০২২ সালে সরকার গোমূত্র লিটারপ্রতি ৪ রুপি দরে কেনার কর্মসূচি শুরু করেছিল। সেই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল জৈব সার ও প্রাকৃতিক কীটনাশক তৈরির পাশাপাশি পশুপালকদের আয় বাড়ানো।

উত্তর প্রদেশের বর্তমান উদ্যোগও একই ধরনের গ্রামীণ অর্থনীতি ও প্রাকৃতিক কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নতুন প্রকল্পটি নিয়ে উত্তর প্রদেশে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিরোধী সমাজবাদী পার্টি (এসপি) সরকারের উদ্যোগকে কটাক্ষ করেছে এবং এর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, এর মূল লক্ষ্য গ্রামীণ পরিবারগুলোর অতিরিক্ত আয় সৃষ্টি এবং কৃষিতে প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার বাড়ানো।

প্রকল্পটি সফল হলে গবাদিপশু পালনকারী পরিবারগুলোর জন্য এটি নতুন আয়ের উৎস হতে পারে। একই সঙ্গে উত্তর প্রদেশে প্রাকৃতিক কৃষি সম্প্রসারণের একটি মডেল হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি

ChannelNRB Footer