মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলানের পোর্ট ডিকসনে তিন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি নাগরিক মো. ইদ্রিস আলীর (৪৩) বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ভাষাগত জটিলতায় এক দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করা হলে তিনি মালয় ভাষায় আদালতের অভিযোগ পুরোপুরি বুঝতে পারছেন না বলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
আদালত আগামী ১৩ আগস্ট অভিযুক্তের বোধগম্য ভাষায় অভিযোগ পড়ে শোনানোর দিন নির্ধারণ করেছেন। এজন্য একজন বাংলাদেশি দোভাষীর সহায়তা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে তিন বাংলাদেশি নাগরিক—মো. নজরুল ইসলাম, মোহাসিন ও কিরণ মিয়া—কে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতে উপস্থাপিত অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি আগস্টের শুরুতে পোর্ট ডিকসনের তামান লিঙ্গি এলাকার একটি বাড়ির পেছনের গলি এবং সাউয়া মাঙ্গিস এলাকার একটি পামবাগানে তিনজনকে হত্যার ঘটনা ঘটে।
এর আগে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নিহতরা একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক ছিলেন। তাদের মধ্যে সংঘর্ষের পর তিনজনের মৃত্যু হয় এবং আরও একজন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হন।
বুধবার ইদ্রিস আলীকে আদালতে হাজির করার পর তার বিরুদ্ধে মালয় ভাষায় অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। শুরুতে তিনি অভিযোগ বুঝেছেন বলে মাথা নাড়েন।
তবে আদালত পরে বুঝতে পারেন, অভিযোগের বিষয়বস্তু তিনি পুরোপুরি বুঝতে পারছেন না। এরপর বাংলাদেশি দোভাষী আনার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং অভিযুক্তের বোঝার মতো ভাষায় অভিযোগ পুনরায় পড়ে শোনানোর জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
শুধু তিন বাংলাদেশিকে হত্যার অভিযোগই নয়, একই ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশি নাগরিক মো. কাজল মণ্ডলকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে।
এই অভিযোগ মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় সেশনস কোর্টে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ মামলার অভিযোগও ১৩ আগস্ট অভিযুক্তের বোধগম্য ভাষায় পড়ে শোনানোর কথা রয়েছে।
তিনজনকে হত্যার অভিযোগটি মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে আইনের আওতায় মৃত্যুদণ্ড অথবা ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। মৃত্যুদণ্ড না হলে সর্বোচ্চ ১২টি বেত্রাঘাতের বিধানও রয়েছে বলে আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নেগেরি সেম্বিলানের পাবলিক প্রসিকিউশনের পরিচালক ইংকু আহমাদ রাশদি ইংকু আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, অভিযুক্তের পক্ষে এখনো কোনো জামিনের আবেদন করা হয়নি।
আগামী ১৩ আগস্ট দোভাষীর সহায়তায় অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
তিন বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় মালয়েশিয়ার পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সহকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের কথা উঠে এলেও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার ধারাবাহিকতা এবং অভিযুক্তের ভূমিকা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় আরও স্পষ্ট হতে পারে।
মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়েও ঘটনাটি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের কাছে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
আরও পড়ুন:







