News Ticker
221.png

আফগানিস্তানে নারী শিক্ষা বন্ধ, জাতিসংঘের সতর্কতা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:০৪

আপডেট: ১২ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:০৯

শেয়ার

শেয়ার

আফগানিস্তানে নারী শিক্ষা বন্ধ, জাতিসংঘের সতর্কতা
ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রাখার বিষয়ে আবারও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পাঁচ বছর পরও দেশটিতে মেয়েদের মাধ্যমিক ও নারীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার বন্ধ রয়েছে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৪ লাখ আফগান মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ২০২২ সালের মার্চে মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয় পুনরায় চালুর কথা থাকলেও তা আর হয়নি। একই বছরের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের পড়াশোনার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এসব নিষেধাজ্ঞা শুরুতে সাময়িক বলে দাবি করা হলেও এখন পর্যন্ত তা প্রত্যাহার করা হয়নি।

ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তান বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে মেয়েদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এর ফলে ২০২১ সালের আগে অর্জিত শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রগতির বড় অংশই ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

জাতিসংঘ বলছে, শিক্ষার সুযোগ বন্ধ থাকায় মেয়েদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও আর্থিক স্বাধীনতার সম্ভাবনা কমছে। এর পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, দারিদ্র্য, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মানসিক চাপের মতো সমস্যাও বাড়তে পারে।

ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে সতর্ক করা হয়েছে, শিক্ষায় এই দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি আফগানিস্তানের শ্রমবাজার ও অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বিপুলসংখ্যক নারী কর্মশক্তির বাইরে চলে যেতে পারেন এবং দেশের আয়ও কমতে পারে।

জাতিসংঘের আফগানিস্তানবিষয়ক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারী ও মেয়েদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, জনপরিসরে অংশগ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় সেবায় প্রবেশাধিকার সীমিত করার নীতিগুলো দেশটির মানবিক ও সুরক্ষা সংকটকে আরও গভীর করছে।

জাতিসংঘ ও ইউনেস্কো আফগান কর্তৃপক্ষের প্রতি মেয়েদের ও নারীদের শিক্ষা অধিকার অবিলম্বে এবং নিঃশর্তভাবে পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে মেয়েদের শেখার সুযোগ ধরে রাখতে বিকল্প ও কমিউনিটিভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একটি প্রজন্মকে দীর্ঘ সময় শিক্ষা থেকে দূরে রাখলে এর প্রভাব আফগানিস্তানের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বহু বছর ধরে থাকতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স 

ChannelNRB Footer