ব্রাজিলে গত চার দশকে প্রাকৃতিক উদ্ভিদ ও বনভূমির বিস্তীর্ণ এলাকা হারিয়ে যাওয়ায় এল নিনোর মতো জলবায়ু পরিস্থিতিতে দেশটির ঝুঁকি বাড়ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এ সময়ে ব্রাজিলের হারানো প্রাকৃতিক উদ্ভিদ আচ্ছাদনের পরিমাণ ফ্রান্সের আয়তনের দ্বিগুণেরও বেশি।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রাকৃতিক এলাকা কমে যাওয়ায় ব্রাজিলের বিভিন্ন অঞ্চল এখন চরম আবহাওয়ার ধাক্কা সামলাতে আগের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে এল নিনোর প্রভাবে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় খরা, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও দাবানলের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার স্বাভাবিক ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। ব্রাজিলেও এর প্রভাব অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে—উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খরা এবং মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের এল নিনো জুনে নিশ্চিত হওয়ার পর বছরের শেষদিকে এর প্রভাব আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে ব্রাজিলের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্ভাব্য খরা, বন্যা ও দাবানল মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
প্রাকৃতিক বন ও অন্যান্য উদ্ভিদ এলাকা মাটি ও পানির ভারসাম্য রক্ষা, বৃষ্টির পানি ধরে রাখা এবং স্থানীয় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব এলাকা কমে গেলে অতিরিক্ত তাপ, পানির সংকট ও দাবানলের মতো দুর্যোগের প্রভাব আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চল এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বনভূমি শুধু বিপুল পরিমাণ কার্বন ধারণ করে না, বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা সরবরাহের মাধ্যমেও দক্ষিণ আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বৃষ্টিপাতের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে খরা ও দাবানলের ঝুঁকি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনোর প্রাকৃতিক প্রভাবের সঙ্গে বন উজাড় ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মতো মানবসৃষ্ট চাপ যুক্ত হলে চরম আবহাওয়ার ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।
ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশ। দেশটির সয়াবিন, কফি, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন আবহাওয়ার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে দীর্ঘস্থায়ী খরা বা অতিবৃষ্টির কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে শুধু ব্রাজিল নয়, আন্তর্জাতিক খাদ্য ও পণ্যবাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা তাই প্রাকৃতিক বন ও অন্যান্য বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণকে এল নিনোর মতো জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে দেখছেন।
সূত্র: এএফপি
আরও পড়ুন:







