News Ticker
221.png

জিম্বাবুয়েতে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ফেরি ডুবে নিহত ৪৪, নিখোঁজ বহু

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:১৫

শেয়ার

শেয়ার

জিম্বাবুয়েতে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ফেরি ডুবে নিহত ৪৪, নিখোঁজ বহু
ছবি: সংগৃহীত

জিম্বাবুয়ের লেক কারিবায় অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ফেরি ডুবে অন্তত ৪৪ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর এখনো বহু যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দেশটির কারিবা এলাকায় ফেরিটি উল্টে যাওয়ার পর শুরু হওয়া উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। নিখোঁজদের সন্ধানে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা কাজ করছেন।

জিম্বাবুয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত ফেরিটির অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ছিল প্রায় ৯০ জন। তবে দুর্ঘটনার সময় এতে ১২০ জনের বেশি মানুষ ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। কিছু প্রতিবেদনে যাত্রী, শিশু ও ক্রুসহ মোট ১৫৩ জন পর্যন্ত ফেরিটিতে ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই থাকাকে দুর্ঘটনার অন্যতম সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, ফেরিটি ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি মানুষ নিয়ে চলছিল। তবে দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ফেরিটি লেক কারিবার পানিতে চলার সময় বড় ঢেউয়ের মুখে পড়ে। একপর্যায়ে ফেরিটিতে পানি উঠতে শুরু করে এবং পরে সেটি উল্টে যায়।

বেঁচে যাওয়া কয়েকজন যাত্রী জানিয়েছেন, ফেরির পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার পর তারা চালককে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফেরিটি তীরে ফিরতে পারেনি এবং পানিতে ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার পর প্রথম দিকে কর্তৃপক্ষ ১৫ জন নিহত এবং ২৭ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছিল। পরে উদ্ধার অভিযান জোরদার হলে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ হিসাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

উদ্ধারকারীরা বেশ কিছু যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ৬৭ জনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কাছাকাছি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর লেক কারিবার পানিতে নিখোঁজদের সন্ধানে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বিশেষায়িত ডুবুরি দলও অভিযানে অংশ নিচ্ছে।

পানির গভীরে ফেরিটির অবস্থান ও দুর্ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লেক কারিবা জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার সীমান্তজুড়ে অবস্থিত বিশাল একটি জলাধার। এটি বিশ্বের বৃহত্তম মানবসৃষ্ট হ্রদগুলোর একটি এবং দুই দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে হ্রদটিতে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন ও শক্তিশালী ঢেউয়ের কারণে নৌযান চলাচলে ঝুঁকি রয়েছে। এর আগেও লেক কারিবা অঞ্চলে নৌযান দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার পর ফেরিটিতে কেন নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়ে এত বেশি যাত্রী উঠতে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছে। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং ফেরিটির নিরাপত্তাব্যবস্থা—সবকিছুই তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

নৌযান পরিচালনায় নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধান এবং জীবিতদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer