News Ticker
221.png

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৬৫, নিখোঁজ প্রায় ৫০০

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:২৮

শেয়ার

শেয়ার

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৬৫, নিখোঁজ প্রায় ৫০০
ছবি: সংগৃহীত

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো প্রায় ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত আটকে আছেন কি না, তা জানতে উদ্ধারকারীরা তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত সোমবার (১০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকালে পশ্চিম কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের চোকো (Chocó) এলাকায়। কম্পন অনুভূত হয় বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। এতে ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, স্কুল ও অন্যান্য অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর থেকেই দেশটির বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ধসে পড়া ভবন ও স্থাপনার নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতির পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করছেন।

উদ্ধার অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসায় কর্তৃপক্ষ এখনো নিখোঁজদের সন্ধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা বলেছেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য এখন নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা।

সরকারি হিসাবে বর্তমানে প্রায় ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে বিভিন্ন নাগরিক-পরিচালিত তথ্যভান্ডারে নিখোঁজের সংখ্যা ৪ হাজার ১০০-এর বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজের তালিকা যাচাই ও হালনাগাদের কাজ চলছে। ফলে সংখ্যাটি পরিবর্তিত হতে পারে।

এই পার্থক্যের অন্যতম কারণ হিসেবে যোগাযোগব্যবস্থার বিঘ্ন এবং একই ব্যক্তির নাম একাধিক তালিকায় থাকার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তাই সরকারি যাচাইকৃত সংখ্যাকেই আপাতত মূল হিসাব হিসেবে ধরা হচ্ছে।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে অন্তত ২৫ হাজার ৮০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন এবং বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও অন্যান্য জরুরি সেবা ব্যাহত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি শহর ও গ্রামীণ এলাকা রয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতাল, স্কুল, বাড়িঘর ও অন্যান্য অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে একটি জরুরি তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলা। সরকারের লক্ষ্য হলো জরুরি উদ্ধারকাজের পাশাপাশি দ্রুত পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন শুরু করা।

সরকারি পর্যায়ে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলো থেকেও সহায়তা আসতে শুরু করেছে।

ভয়াবহ এই প্রাণহানির ঘটনায় কলম্বিয়ায় তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। নিহতদের স্মরণে দেশজুড়ে শোক পালন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছেন হাজারো মানুষ।

উদ্ধারকারীরা বলছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রাখা হচ্ছে। তবে সময় যত যাচ্ছে, উদ্ধারকাজ তত কঠিন হয়ে উঠছে।

৭ দশমিক ৪ মাত্রার এই ভূমিকম্প পশ্চিম কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তীব্রভাবে অনুভূত হয়। প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামার কিছু এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কলম্বিয়া সক্রিয় ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটির ওপর নাজকা প্লেট ও দক্ষিণ আমেরিকান প্লেটের ভূতাত্ত্বিক ক্রিয়ার প্রভাব রয়েছে। ফলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি দেশটিতে দীর্ঘদিনের।

উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে পুনর্বাসন এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণই হবে সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে পুনর্গঠনের জন্য জরুরি তহবিলের কথা জানিয়েছেন।

এদিকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং মৃতদেহ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ফলে আগামী কয়েক দিনে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও স্পষ্ট হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer