News Ticker
221.png

২৩ বছর পর ইরাক থেকে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৩৩

শেয়ার

শেয়ার

২৩ বছর পর ইরাক থেকে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ইরাক থেকে অবশিষ্ট সব সেনা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ও ইরাকি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ইরাকে থাকা শেষ মার্কিন সেনাদেরও প্রত্যাহার সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটবে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের অবশিষ্ট সদস্যদের প্রত্যাহার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। মার্কিন কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছেন, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ইরাক থেকে তাদের সামরিক প্রত্যাহার শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বর্তমান অধ্যায়ের শুরু ২০০৩ সালে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে এবং পরে সাদ্দাম হোসেনের সরকার পতন ঘটে।

পরবর্তী বছরগুলোতে দেশটিতে মার্কিন সেনার সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। ২০০৭ সালের ‘সার্জ’ অভিযানের সময় ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি হয়েছিল।

২০১১ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র একবার ইরাক থেকে প্রায় সব সেনা প্রত্যাহার করেছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করার পর মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট আবার ইরাকে সামরিকভাবে সক্রিয় হয়।

২০১৪ সালের পর ইরাকে মার্কিন সেনাদের প্রধান ভূমিকা ছিল আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরাকি বাহিনীকে সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও সামরিক পরামর্শ দেওয়া।

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ইরাকে তার combat mission শেষ করার ঘোষণা দেয়। এরপরও মার্কিন সেনারা প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও আইএসবিরোধী অভিযানে সহায়তার কাজে দেশটিতে অবস্থান করছিল।

এখন সেই উপস্থিতিও শেষ করার পথে ওয়াশিংটন।

ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্র ২০২৪ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক মিশন ধাপে ধাপে শেষ করার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরাকের অধিকাংশ এলাকা থেকে মার্কিন সেনা ও সামরিক অবকাঠামো সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবশিষ্ট সীমিত উপস্থিতিও ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল।

এখন সেই পরিকল্পনার শেষ ধাপ চলছে।

ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিল এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের অবশিষ্ট সামরিক উপস্থিতি ছিল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সেখান থেকে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম জোরদার হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রত্যাহার পরিকল্পনা অনুযায়ীই এগোচ্ছে এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

এরবিলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা বিভিন্ন সময়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ২০২৬ সালে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের পর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে ইরাকের নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেশি করে দেশটির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বর্তাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরাকি বাহিনী গত এক দশকে সামরিক সক্ষমতা অনেকটাই বাড়িয়েছে। তবে আইএসের অবশিষ্ট নেটওয়ার্ক, বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রভাবের কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়।

বিশেষ করে ইরানে ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই ইরাকে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির বিরোধিতা করে আসছে।

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার দেশটির সার্বভৌমত্বের দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। বাগদাদ দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং বিদেশি সেনাদের উপস্থিতি কমানোর কথা বলে আসছে।

অন্যদিকে ওয়াশিংটনের জন্যও এটি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতির ধরন পরিবর্তনের অংশ। ইরাক থেকে সেনা কমালেও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি থাকবে।

২০০৩ সালের যুদ্ধ থেকে শুরু করে আইএসবিরোধী অভিযান—ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।

এখন ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ সেনাটিও চলে গেলে ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির এই দীর্ঘ অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।

তবে ইরাক-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এখানেই শেষ হচ্ছে না। সামরিক উপস্থিতি কমলেও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে।

সূত্র: আল জাজিরা

ChannelNRB Footer