News Ticker
221.png

৫ হাজারের বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, অনলাইন সেলিব্রেটি গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৫৭

শেয়ার

শেয়ার

৫ হাজারের বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, অনলাইন সেলিব্রেটি গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পুনেতে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে রোহান রাজেশ্বর যাদব নামে ২৬ বছর বয়সী এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সারকে গ্রেপ্তার করেছে সাইবার পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, প্রতারণার অর্থ সরানোর জন্য তার সঙ্গে ৫ হাজার ৪৩৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মোট প্রায় ১০ কোটি ৭৪ লাখ ভারতীয় রুপি লেনদেন হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুনে সাইবার পুলিশের তদন্তে একটি ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ প্রতারণা মামলার অর্থের গতিপথ অনুসরণ করতে গিয়ে রোহানের নাম সামনে আসে।

পুলিশের অভিযোগ, ৮২ বছর বয়সী এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীকে মিথ্যা অর্থপাচার মামলায় জড়িয়ে পড়ার ভয় দেখিয়ে প্রতারকরা বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়। তদন্তকারীরা ব্যাংক লেনদেন বিশ্লেষণ করে ওই অর্থের সঙ্গে রোহানের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পান। পরে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

তদন্তকারীদের দাবি, রোহান প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া ১০ কোটি ৭৪ লাখ রুপি ৫ হাজার ৪৩৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরে ভূমিকা রেখেছেন।

পুলিশের ভাষায়, এসব অ্যাকাউন্টের একটি বড় অংশ ছিল ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’—অর্থাৎ এমন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, যেগুলো অন্যের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ ও পরে তা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়।

তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই অ্যাকাউন্টগুলো শুধু একটি প্রতারণার ঘটনায় নয়, আরও অনেক মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে থাকতে পারে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, রোহান টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে হংকংয়ে থাকা কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তাদের সঙ্গে ভিডিও কলেও কথা বলতেন তিনি।

পুলিশের অভিযোগ, এসব ব্যক্তির সঙ্গে ডিজিটাল ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করতেন রোহান। ভারত থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা করে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি কমিশন পেতেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোহানের পরিচিতি ছিল একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে। পাশাপাশি তিনি সেলিব্রিটি ম্যানেজমেন্টের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই পরিচিতি ও যোগাযোগের নেটওয়ার্কের আড়ালে তিনি আর্থিক লেনদেনের একটি চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এই মামলায় যে বৃদ্ধ ব্যবসায়ী প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তার কাছ থেকে ১০ কোটি ৭৪ লাখ রুপি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে একই মামলায় প্রতারণার পরিমাণ প্রায় ১০.৭৩ কোটি রুপি উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ ব্যাংকিং লেনদেনের ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে অর্থের গতিপথ শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।

পুনে সাইবার পুলিশের ধারণা, রোহানের মাধ্যমে পরিচালিত বা ব্যবহৃত অ্যাকাউন্টগুলো হয়তো আরও অনেক প্রতারণার অর্থ সরাতে ব্যবহার করা হয়েছে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আরও কতজন মানুষ প্রতারিত হয়েছেন এবং মোট কত অর্থ লেনদেন হয়েছে, তা জানতে তদন্ত চলছে।

রোহান যাদবের বিরুদ্ধে পুনে ও পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণা ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের অভিযোগ তদন্তাধীন।

তদন্তকারীরা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল যোগাযোগ, টেলিগ্রাম চ্যাট এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন খতিয়ে দেখছেন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া 

ChannelNRB Footer