পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খানের কারাগারে মৃত্যুর গুঞ্জন ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ইমরান খান মারা গেছেন, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। বরং পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ (আইএসপিআর) এ ধরনের খবরকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খান সম্প্রতি দাবি করেন, দেশটির সামরিক বাহিনীর কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মধ্যে ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। এমনকি তিনি কারাগারে আর জীবিত নাও থাকতে পারেন—এমন আশঙ্কার কথাও তিনি তার সূত্রের বরাতে উল্লেখ করেন।
এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ইমরান খানের মৃত্যুর গুঞ্জন তীব্র হয় এবং পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
তবে পরে ওই সাংবাদিক নিজেই স্পষ্ট করেন যে তার সূত্রগুলো ইমরান খানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
গুঞ্জনের ব্যাপক বিস্তারের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আইএসপিআর বিরলভাবে প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া জানায়।
আইএসপিআর ইমরান খানের মৃত্যুর খবরকে ‘false and fabricated’ বা মিথ্যা ও বানোয়াট বলে অভিহিত করেছে। অর্থাৎ ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি অবস্থান হলো—ইমরান খান জীবিত এবং কারাগারে রয়েছেন।
ইমরান খানের দল পিটিআই তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দাবি করেছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য ও অবস্থান নিয়ে পরিষ্কার তথ্য না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
পিটিআই মঙ্গলবার জানিয়েছিল, ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আসা ‘উদ্বেগজনক প্রতিবেদন’ দেশজুড়ে অস্থিরতা তৈরি করছে। দলটি সরকারকে তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
দলটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ না দিলে তারা বড় ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যেতে পারে।
ইমরান খান পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতাদের একজন। ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়েছে এবং ২০২৩ সাল থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
তার কারাবন্দিত্বকে কেন্দ্র করে পিটিআই ও সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। ফলে তার স্বাস্থ্য নিয়ে সামান্য কোনো খবরও দ্রুত রাজনৈতিক সংকটে রূপ নেয়।
ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে তার কারাবন্দিত্ব এবং স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।
এর আগে ২০২৬ সালেও তার স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে নতুন করে তার স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন ছড়ানোয় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ইমরান খানের দীর্ঘ কারাবাসের পেছনে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম আল-কাদির ট্রাস্ট মামলা। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি আদালত এই মামলায় তাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেয়। তিনি রায়টির বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
এ ছাড়া তোশাখানা-২ মামলায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধেও আইনি লড়াই চলছে।
মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর পিটিআই সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। দলটির নেতারা বলছেন, ইমরান খানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।
অন্যদিকে পাকিস্তান এরই মধ্যে রাজনৈতিকভাবে অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক সংঘাত ও বিক্ষোভের ঘটনাও সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে।
সূত্র: মিন্ট
আরও পড়ুন:







