দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পর দেশে ফিরেছেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নেপালি কংগ্রেসের সভাপতি শের বাহাদুর দেউবা। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তীব্র জেনজি (Gen Z) আন্দোলনের সময় হামলার শিকার হওয়ার পর তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে দেউবা কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে নেপালি কংগ্রেসের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা তাকে স্বাগত জানান।
২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নেপালে জেনজি আন্দোলন ভয়াবহ রূপ নিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও তাদের বাসভবনে হামলা হয়। ওই সময় দেউবা ও তার স্ত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবা, হামলার শিকার হন এবং তাদের বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়। দুজনই গুরুতর আহত হন।
এরপর চিকিৎসার জন্য তারা বিদেশে যান। দেউবা প্রথমে সিঙ্গাপুর হয়ে হংকংয়ে চিকিৎসা নেন এবং কয়েক মাস সেখানেই অবস্থান করেন। পরে চিকিৎসা শেষ করে দেশে ফেরেন।
দেশে ফিরে ৮০ বছর বয়সী দেউবা বলেন, দেশ ও দেশের মানুষের টানেই তিনি ফিরে এসেছেন। তিনি নিজেকে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ নাগরিক হিসেবে দেশের সেবা করতে চান বলে জানান।
নেপালি কংগ্রেসের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তার প্রত্যাবর্তন দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালের তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া জেনজি আন্দোলনের অন্যতম কারণ ছিল দুর্নীতি, রাজনৈতিক অভিজাতদের জীবনযাপন এবং সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের নিষেধাজ্ঞাও আন্দোলনকে আরও তীব্র করে।
৮ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত হওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি স্থাপনায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাবে দুই দিনের সহিংসতায় অন্তত ৭৬ জন নিহত হন।
দেউবার বাড়িতেও হামলা হয় এবং তাকে ও তার স্ত্রীকে আহত অবস্থায় নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
দেউবার দেশে ফেরার সময় নেপালের রাজনীতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী একদিকে দীর্ঘ চিকিৎসার পর রাজনীতির মাঠে ফিরলেন, অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচার-সংক্রান্ত তদন্ত নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
তার বিরুদ্ধে থাকা পরোয়ানা আদালত খারিজ করেছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে দেশে ফিরে তিনি রাজনৈতিক ও আইনি—দুই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
দেউবা দেশে ফিরলেও তার স্ত্রী আরজু রানা দেউবা একই সময়ে দেশে ফিরেছেন কি না, তা নিয়ে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







