জাপানের রাজধানী টোকিওর পার্শ্ববর্তী চিবা প্রিফেকচারে নজিরবিহীন ভারী বর্ষণে ভয়াবহ বন্যা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে সড়ক ও রেলপথ ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এর মধ্যে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৭ হাজার যাত্রী আটকা পড়েন। ভয়াবহ এই দুর্যোগে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল থেকে চিবা প্রিফেকচারে শুরু হয় অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টি। কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৬০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চিবা শহরের একটি এলাকায় মাত্র ১২ ঘণ্টায় ৩৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা সেখানে রেকর্ড শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ।
এক পর্যায়ে প্রতি ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (JMA) চিবার কয়েকটি এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের সর্বোচ্চ লেভেল-৫ সতর্কতা জারি করে।
প্রবল বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন, যাকে পানিতে ডুবে যাওয়া গাড়ির ভেতর পাওয়া যায়। আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বন্যার পানিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ যানবাহনের মধ্যে আটকা পড়েন। বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও সড়কে পানি ঢুকে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপানের সামরিক বাহিনীর সদস্যদেরও উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃষ্টির কারণে চিবা অঞ্চলের সড়ক ও রেল যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে টোকিওর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। রেলসেবা ও মহাসড়ক বন্ধ বা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৭ হাজার যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়েন। তাদের অনেকেই রাত বিমানবন্দরের টার্মিনালে কাটান।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আটকে পড়া যাত্রীদের কম্বল, পানি ও খাবারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করে। শুক্রবার সকালে নারিতা থেকে বিমান চলাচল চালু থাকলেও পরিবহনব্যবস্থার বিপর্যয়ের কারণে যাত্রীদের যাতায়াতে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
ভারি বর্ষণে চিবার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। শুক্রবার সকালে ২২ হাজারের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার খবর পাওয়া যায়। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং একাধিক রেললাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়।
কিছু রেলসেবা শুক্রবার সকালে ধীরে ধীরে চালু হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয়ভাবে জারি করা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
শুক্রবার সকালে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা কিছুটা কমিয়ে আনা হলেও আবহাওয়ায় অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। ফলে নদীর পানি বৃদ্ধি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি এখনো রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে নিচু এলাকা ও নদীসংলগ্ন বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
জাপানের আবহাওয়াবিদরা বলছেন, অল্প সময়ে অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃষ্টিপাতের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে। টোকিওর পাশের চিবা প্রিফেকচারে এমন নজিরবিহীন বর্ষণে এবার দেশটির অন্যতম ব্যস্ত ছুটির মৌসুমেও ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও পর্যটকেরা।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







