ভারতের উত্তরাখণ্ডে নির্মাণাধীন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ৭ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আকস্মিকভাবে টানেলের ভেতরে পানি ও কাদামাটি ঢুকে পড়ার পর তারা আটকা পড়েন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তিন শ্রমিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে বড় ধরনের অভিযান চলছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার পিপলকোটি এলাকায় বিষ্ণুগড়-পিপলকোটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণাধীন টানেলে হঠাৎ পানি ও বিপুল পরিমাণ কাদামাটি ও পাথরের ধস ঢুকে পড়ে। ভূমিধস ও মাটির নিচের অংশে ধসের কারণে টানেলের একটি বড় অংশ পানিতে ও ধ্বংসাবশেষে ভরে যায়।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় টানেলের ভেতরে মোট ২২ জন শ্রমিক ছিলেন। উদ্ধারকারীরা বেশ কয়েকজনকে জীবিত বের করে আনতে সক্ষম হলেও সাতজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল টানেলের ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পায়, সেখানে বিপুল পরিমাণ পানি জমে রয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে পানি চুঁইয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে কারণ টানেলের ভেতরে কাদা, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ জমে যায়।
উদ্ধারকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে টানেলের ভেতরের পানির উচ্চতা ও অস্থিতিশীল কাঠামো। নিরাপদে ভেতরে প্রবেশ করে নিখোঁজ শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর ভারতের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (NDRF), স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (SDRF), ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশ (ITBP) এবং স্থানীয় দমকল ও প্রশাসনের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। সেনাবাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তা করছেন।
পানিতে ডুবে থাকা অংশে পৌঁছাতে উদ্ধারকারীরা বিশেষ সরঞ্জাম ও অস্থায়ী ভাসমান ব্যবস্থা ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে টানেলের মুখ ও ভেতরে জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ সরানোর চেষ্টা চলছে।
দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আহতের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে; সর্বশেষ স্থানীয় প্রতিবেদনে প্রায় ১০-১৪ জন আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাদের কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
হিমালয়ঘেঁষা উত্তরাখণ্ডে টানেল ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি দীর্ঘদিনের। এই অঞ্চলের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, ভূমিধস, ভূমিকম্পের ঝুঁকি এবং আকস্মিক পানি প্রবাহ নির্মাণকাজকে কঠিন করে তোলে।
এর আগে ২০২৩ সালে উত্তরাখণ্ডের সিল্কিয়ারা টানেলে ধসের পর ৪১ শ্রমিক ১৭ দিন আটকা ছিলেন। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর তাদের সবাইকে জীবিত বের করে আনা হয়েছিল।
এদিকে নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। টানেলের ভেতরের পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালানো হচ্ছে।
সূত্র: এপি নিউজ
আরও পড়ুন:







