চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস লিকেজের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ভাটিয়ারী এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজন শ্রমিককে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কয়েকজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও কয়েকজনের মৃত্যু হলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। সর্বশেষ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ৮ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় ও উদ্ধারকারী সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে ইয়ার্ডে একটি জাহাজে কাজ চলছিল। ওই সময় জাহাজের একটি ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস বের হয়ে আসে। গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে থাকা শ্রমিকদের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অনেকে জ্ঞান হারান।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জাহাজের ভেতরে প্রবেশ করে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। সেখান থেকে কয়েকজন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আহত ও অসুস্থ শ্রমিকদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে ১০ থেকে ১৫ জন অসুস্থ বা আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাদের কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ইয়ার্ডে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়। জাহাজের ভেতরের নিচের অংশে পানি জমে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনার কারণ এবং কর্মীদের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিপব্রেকিং শিল্পে পুরোনো জাহাজের ট্যাংক ও আবদ্ধ স্থানে জমে থাকা গ্যাস শ্রমিকদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পর্যাপ্ত গ্যাস পরীক্ষা, বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া এসব স্থানে প্রবেশ করলে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
দুর্ঘটনার পর ইয়ার্ড এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয় বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।
এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ইয়ার্ডে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:







