যুক্তরাজ্যকে কটাক্ষ করে দেশটিকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি আর্মি রেডিওতে সম্প্রচারিত এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই আলোচনায় ব্রিটেনকে পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রথম ‘ইসলামিক রিপাবলিক’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতোমধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু ব্রিটেনের বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে অতীতের তুলনা করেন। তিনি ব্রিটিশ সাংবাদিক ও লেখক র্যান্ডলফ চার্চিল এবং তাঁর ছেলে উইনস্টন চার্চিলের ইসরায়েলপন্থী অবস্থানের প্রসঙ্গ তোলেন।
নেতানিয়াহু বলেন, অতীতে চার্চিল পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি যে ধরনের ইতিবাচক মনোভাব দেখা যেত, বর্তমান ব্রিটেনে তা খুঁজে পাওয়া কঠিন। এ প্রসঙ্গেই তিনি যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলে অভিহিত করেন।
এরপর তিনি দাবি করেন, কেউ একজন বলেছিলেন—পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রথম ইসলামিক রিপাবলিক হবে ব্রিটেন। এ বক্তব্যের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ঠেকাতে ইসরায়েলের অবস্থানকেও যুক্ত করেন তিনি।
নেতানিয়াহুর মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ব্রিটেন ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন বেড়েছে। গাজা যুদ্ধ এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান নিয়ে ইসরায়েলি নেতৃত্বের অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে।
বিশেষ করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি, ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা এবং ইসরায়েলের ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার আলোচনা দুই দেশের সম্পর্কে চাপ বাড়িয়েছে।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে কটাক্ষ ও ইসলামবিদ্বেষী রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে সমালোচনা করেছেন অনেকে। ইসরায়েলের বিরোধী রাজনীতিক আভি দাবুশও এই মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী মিত্রের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করার মাধ্যমে ইসরায়েলের কূটনৈতিক ব্যর্থতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের প্রগ্রেসিভ জুডাইজম আন্দোলনের নেতারাও নেতানিয়াহুর বক্তব্য থেকে নিজেদের দূরত্ব স্পষ্ট করেছেন। তারা বলেছেন, নেতানিয়াহু ব্রিটিশ ইহুদিদের প্রতিনিধিত্ব করেন না।
নেতানিয়াহুর মন্তব্যটি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ২০২৪ সালের একটি বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সে সময় ভ্যান্সও ব্রিটেনকে ভবিষ্যতের একটি ‘ইসলামপন্থী’ পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে মন্তব্য করেছিলেন। নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
নেতানিয়াহুর এমন প্রকাশ্য মন্তব্য ব্রিটেন-ইসরায়েল সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্য যখন ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে, তখন একজন ঘনিষ্ঠ পশ্চিমা মিত্রকে এ ধরনের ভাষায় আক্রমণ করা কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
এখন পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে নেতানিয়াহুর দপ্তরও তাঁর বক্তব্যটি ইসরায়েল সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান কি না, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
সূত্র: আল জাজিরা
আরও পড়ুন:







