News Ticker
221.png

বিরল খনিজের খোঁজে ইরানে যাচ্ছেন চীনের বিজ্ঞানীরা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ২২:২৯

আপডেট: ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৪৪

শেয়ার

শেয়ার

বিরল খনিজের খোঁজে ইরানে যাচ্ছেন চীনের বিজ্ঞানীরা
ছবি: সংগৃহীত

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিরল মাটি ধাতু নিয়ে ইরানের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে চীন। চলতি বছরের যৌথ কর্মসূচিতে বিরল খনিজের অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তিকে সহযোগিতার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে চীনের ন্যাশনাল ন্যাচারাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (NSFC) ও ইরান ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (INSF)। এ কর্মসূচির আওতায় চীনা বিজ্ঞানীদের ইরানে গিয়ে গবেষণা ও অনুসন্ধানে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। 

হংকংভিত্তিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চীন-ইরানের চলতি বছরের যৌথ কর্মসূচিতে রেয়ার আর্থ অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিটি দুই দেশের বিজ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার অংশ। 

দুই দেশের বিজ্ঞান ফাউন্ডেশনের যৌথ কর্মসূচি ২০২৪ সালে শুরু হয়। শুরুতে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত উপকরণ ও উৎপাদন প্রযুক্তির মতো বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এবার কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় রেয়ার আর্থ অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণও সহযোগিতার তালিকায় এসেছে। 

রেয়ার আর্থ বলতে ১৭টি বিশেষ ধাতুর একটি গোষ্ঠীকে বোঝায়। এগুলোর বিশেষ চৌম্বকীয় ও বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে আধুনিক প্রযুক্তিতে ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

ইলেকট্রনিক পণ্য, বৈদ্যুতিক গাড়ি, শক্তিশালী চুম্বক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি থেকে শুরু করে রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ও বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতেও এসব উপাদান গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রেয়ার আর্থের সরবরাহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত বিষয়েও পরিণত হয়েছে। 

বিশ্বের রেয়ার আর্থ খাতে চীনের অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। শুধু খনিজ উত্তোলন নয়, এগুলো পৃথকীকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণেও দেশটির বড় সক্ষমতা রয়েছে।

সম্প্রতি রেয়ার আর্থ প্রযুক্তি বিদেশে স্থানান্তরের ওপরও চীন নিয়ন্ত্রণ কঠোর করেছে। ফলে চীন এখন একই সঙ্গে নিজেদের সরবরাহব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। 

ইরানের ভূতাত্ত্বিক গঠনেও রেয়ার আর্থসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সম্ভাবনা রয়েছে বলে গবেষণা ও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্য ইরানের প্রায় ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় সম্ভাব্য রেয়ার আর্থের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সম্ভাব্য মজুতের প্রকৃত পরিমাণ ও বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্যতা নির্ধারণে আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন। 

ইরানের বড় চ্যালেঞ্জ হলো এসব খনিজ উত্তোলন ও শিল্প পর্যায়ে প্রক্রিয়াজাত করার অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা। চীনা গবেষক ও প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে সহযোগিতা সেই সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

চীন-ইরানের এই সহযোগিতা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিয়ে প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় রেয়ার আর্থ গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশলগত সম্পদে পরিণত হয়েছে।

ফলে ইরানে রেয়ার আর্থ অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণে চীনের অংশগ্রহণ শুধু বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিষয় নয়; এর অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সফল হলে ইরান ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের নতুন সরবরাহকারী হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিতে পারে। 

রেয়ার আর্থ সহযোগিতা দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্কের আরেকটি দিক সামনে আনছে। জ্বালানি, বাণিজ্য ও অবকাঠামোর পাশাপাশি এখন বিজ্ঞান ও খনিজ প্রযুক্তিও চীন-ইরান সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।

তবে চীনা বিজ্ঞানীরা ঠিক কবে, কতজন এবং কোন নির্দিষ্ট এলাকায় মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন—এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। তাই এটিকে আপাতত যৌথ গবেষণা ও সহযোগিতা কর্মসূচি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সূত্র: দা ষ্টার

ChannelNRB Footer