News Ticker
221.png

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:২৮

আপডেট: ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৩৫

শেয়ার

শেয়ার

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি
ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের ফ্লোরেস দ্বীপ এলাকায় শক্তিশালী ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, বিভিন্ন স্থাপনা ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকটি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি করে কর্তৃপক্ষ। তবে কয়েক ঘণ্টা পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্প ও পরবর্তী ধসের ঘটনায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং কিছু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি হতাহতের খবর পাওয়া গেছে ফ্লোরেস দ্বীপের মাউমেরে শহর ও আশপাশের এলাকায়। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করছেন।

প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন সময় কমসংখ্যক হতাহতের তথ্য পাওয়া গেলেও উদ্ধার অভিযান এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। দুর্গম এলাকা, ভূমিধস ও যোগাযোগব্যবস্থার বিঘ্ন উদ্ধার তৎপরতাকে কঠিন করে তুলেছে।

ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যেতে বলে। কয়েকটি এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার সুনামি ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর প্রায় তিন ঘণ্টা পরে সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যবেক্ষণে বড় ধরনের সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তন দেখা না যাওয়ায় সুনামির বড় ঝুঁকি আর নেই। তবে ভূমিকম্প-পরবর্তী আফটারশকের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

প্রধান ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে একটি কম্পনের মাত্রা ৬.১ ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এসব কম্পনের কারণে বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেন।

ভূমিকম্পের ফলে ফ্লোরেস দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, সরকারি স্থাপনা ও গুদামসহ বেশ কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। ভূমিধসের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কিছু অংশও বন্ধ হয়ে যায়।

নাগেওকেও (Nagekeo) এলাকায় প্রায় ২ হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান বলে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের ফ্লোরেস অঞ্চলের কাছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, কম্পনটি ছিল অগভীর এবং এন্ডে শহরের উত্তর-উত্তরপশ্চিমে সমুদ্রের কাছে এর উৎপত্তি। ইন্দোনেশিয়ার ভূ-ভৌত সংস্থা BMKG-ও ঘটনাটি রেকর্ড করেছে।

ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত তুলনামূলকভাবে বেশি ঘটে। ফ্লোরেস অঞ্চলও অতীতে বড় ধরনের ভূমিকম্প ও সুনামির মুখোমুখি হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছে কি না, তা খুঁজে দেখতে কাজ করছে উদ্ধারকারী দল। 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে। উদ্ধার অভিযান এবং মাঠপর্যায়ের মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া কঠিন।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer