যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে জোর দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রম কোনো বাধা ছাড়াই অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনও বাড়ানোর কথা জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ১৪ আগস্ট জানান, সাম্প্রতিক প্রায় ৪০ দিনের মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পরও দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ হয়নি। তার দাবি, যুদ্ধের সময় ও পরবর্তী সময়েও প্রতিরক্ষা শিল্পের কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া সরঞ্জাম পুনর্গঠনেও কাজ চলছে। তবে উৎপাদনের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বা কোন কোন ব্যবস্থার উৎপাদন কতটা বাড়ানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে আইআরজিসির একজন মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বেড়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতাও উন্নত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তবে ইরানের বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র মজুত, উৎপাদন সক্ষমতা এবং সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় প্রতিরক্ষা শিল্পের কতটা ক্ষতি হয়েছে—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ্যে নেই। ফলে তেহরানের দাবির প্রকৃত পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।
চলমান সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ব্যাপক চাপের মুখে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের বিভিন্ন অবকাঠামোয় হামলা চালানোর দাবি করেছে।
অন্যদিকে, সংঘাতের পর ইরান দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কিছু বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়েছে, উৎপাদন আবার উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে ফিরতে পারলে কয়েক বছরের মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় বড় আকার ধারণ করতে পারে।
ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক পুনর্গঠন নিয়েও তেহরান সক্রিয় হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইরানের কাছে চীনা ও রুশ উৎপাদিত কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছানোর কথাও বলা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনে ব্যবহৃত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব সরঞ্জামের সঠিক সংখ্যা ও সরবরাহের বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সংঘাতে দুই পক্ষের বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পর ভবিষ্যৎ সংঘাতের জন্য মজুত পুনর্গঠন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের পর সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররাও নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর অস্ত্র উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর জন্য প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছে।
বিস্তারিত নিউজ ওয়াইল্ডmouth
সূত্র: মেহর নিউজ
আরও পড়ুন:







