News Ticker
221.png

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জেসন আরডের মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:১১

আপডেট: ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৪৬

শেয়ার

শেয়ার

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জেসন আরডের মরদেহ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জেসন আরডের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দক্ষিণ লন্ডনের ব্যাটারসিতে একটি ঠিকানা থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই ৪১ বছর বয়সী এই শিক্ষাবিদের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে একাডেমিক যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ও প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের মধ্যে ছিলেন আরডে। এসব বিতর্কের জেরে মাত্র এক সপ্তাহ আগে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেন।

মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে ব্যাটারসির একটি ঠিকানায় পুলিশ ও জরুরি সেবাদানকারী দলকে ডাকা হয়। সেখানে ৪১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে সন্দেহজনক বলে মনে করছে না পুলিশ।

তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ও। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডেবোরাহ প্রেন্টিস এক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করে আরডের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

জেসন আরডে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাবিজ্ঞানের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি কেমব্রিজে যোগ দেন। এর আগে ডারহাম ও গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষকতা করেছেন।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার একাডেমিক কাজ ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তার বিরুদ্ধে প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগও সামনে আসে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় তার নিয়োগ ও একাডেমিক বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত শুরু করে। শেষ পর্যন্ত গত সপ্তাহে তিনি অধ্যাপকের পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

পদত্যাগের সময় আরডে অভিযোগ ও জনসমালোচনার কারণে নিজের ওপর তৈরি হওয়া চাপের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সমালোচনা একাডেমিক জীবনের স্বাভাবিক অংশ হলেও তিনি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তা কেবল একাডেমিক মতবিরোধের পর্যায়ে ছিল না।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে চলা অভিযোগ, নানা জল্পনা এবং প্রকাশ্য মন্তব্য তার ও তার ঘনিষ্ঠজনদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। একই সঙ্গে পদত্যাগকে অভিযোগগুলো স্বীকার করে নেওয়া হিসেবে ব্যাখ্যা না করার অনুরোধও জানিয়েছিলেন তিনি।

আরডের মৃত্যুর পর তার পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে একজন অসাধারণ বাবা, সঙ্গী, ভাই, চাচা ও ছেলে হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ঘিরে চলা বিতর্ক ও তথ্যের প্রচার তার ওপর কতটা চাপ তৈরি করেছিল, সেটিও পরিবারের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

জেসন আরডের জীবন ছিল ব্যতিক্রমী উত্থানের গল্প। শৈশবে তিনি দীর্ঘ সময় কথা বলতে পারেননি এবং কৈশোরের শেষ দিকে গিয়ে পড়তে শেখেন। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে তিনি গবেষণা ও শিক্ষকতায় প্রতিষ্ঠা পান এবং ব্রিটেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন।

একসময় তার একাডেমিক সাফল্য ও ব্যক্তিগত জীবনের সংগ্রাম তাকে অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকের টর্চ রিলে অনুষ্ঠানেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন।

তার মৃত্যুর কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ব্যাটারসির ঘটনাস্থলে পাওয়া ৪১ বছর বয়সী ব্যক্তির মৃত্যু আপাতত সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও তদন্তের ফলাফলের দিকে নজর রয়েছে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপকের আকস্মিক মৃত্যু ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের একাডেমিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার মৃত্যুর সঙ্গে সাম্প্রতিক বিতর্কের কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। 

সূত্র: এবিসি নিউজ 

 

ChannelNRB Footer