ব্রুনেইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ তাঁর পুত্রবধূ পেংগিরান রাবিয়াতুল আদাওয়িয়াহর রাজকীয় উপাধি প্রত্যাহার করেছেন। রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে তাঁর আচরণ ‘অনুপযুক্ত’ এবং সুলতানের প্রতি যথাযথ সম্মানের অভাব ছিল—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রুনেইয়ের রাজদরবার।
৮ আগস্ট ২০২৬ জারি করা এক রাজকীয় আদেশে রাবিয়াতুলের ‘ইয়াং আমাত মুলিয়া পেংগিরান আনাক ইস্তেরি’ উপাধি বাতিল করা হয়। আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের আচরণের অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।
ব্রুনেইয়ের Office of the Grand Chamberlain-এর ঘোষণায় বলা হয়েছে, রাবিয়াতুল এমন কিছু আচরণ করেছেন, যা রাজপরিবারের একজন সদস্যের স্ত্রী হিসেবে ‘অনুপযুক্ত’ বলে বিবেচিত হয়েছে। তাঁর কর্মকাণ্ড রাজপরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে এবং সুলতান হাসানাল বলকিয়াহর প্রতি সম্মানের ঘাটতি দেখিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট ঘটনা, সময় বা পরিস্থিতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে রাজপরিবারের ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও বিষয়টিকে রহস্যাবৃত বলে উল্লেখ করেছে।
রাবিয়াতুল আদাওয়িয়াহ ব্রুনেইয়ের সুলতানের দ্বিতীয় ছেলে প্রিন্স আবদুল মালিকের স্ত্রী। ২০১৫ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের বিয়েকে ঘিরে ব্রুনেইয়ে ১০ দিনব্যাপী জাঁকজমকপূর্ণ রাজকীয় আয়োজন হয়েছিল। বিয়ের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাজপরিবারের সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
বিয়ের পর রাবিয়াতুল ‘Yang Amat Mulia Pengiran Anak Isteri’ উপাধি ব্যবহার করতেন। ব্রুনেই সরকারের প্রকাশনাতেও সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত তাঁকে এই উপাধিতেই উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই সুলতানের ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সরকারি প্রতিবেদনে তাঁকে প্রিন্স আবদুল মালিকের সঙ্গে একই রাজকীয় উপাধিতে উল্লেখ করা হয়েছিল।
প্রিন্স আবদুল মালিক ও রাবিয়াতুলের চার কন্যাসন্তান রয়েছে। তাঁদের সন্তানদের রাজকীয় মর্যাদা ও উপাধি অবশ্য এই সিদ্ধান্তের কারণে বাতিল করা হয়নি। অর্থাৎ মায়ের রাজকীয় উপাধি প্রত্যাহার হলেও তাঁর চার মেয়ের রাজকীয় পরিচয় বহাল থাকছে।
রাজপরিবারের কারও উপাধি প্রত্যাহারের ঘটনা ব্রুনেইয়ে একেবারে নজিরবিহীন নয়। সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ এর আগেও তাঁর সাবেক স্ত্রীদের রাজকীয় উপাধি প্রত্যাহার করেছিলেন।
২০০৩ সালে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মারিয়াম আবদুল আজিজের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তাঁর রাজকীয় উপাধিগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে ২০১০ সালে সাবেক তৃতীয় স্ত্রী আজরিনাজ মাজহার হাকিমের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের সময়ও তাঁর দেওয়া সব রাজকীয় উপাধি প্রত্যাহার করা হয়।
ব্রুনেইয়ের রাজপরিবারে রাজকীয় উপাধি শুধু আনুষ্ঠানিক পরিচয় নয়; এটি ব্যক্তির রাজপরিবারের সঙ্গে অবস্থান ও মর্যাদারও প্রতিফলন। দেশটির সরকারি নথি ও রাজপরিবারের প্রকাশনায় বিভিন্ন সদস্যের জন্য আলাদা আলাদা রাজকীয় উপাধি ও সম্বোধন ব্যবহৃত হয়।
ব্রুনেইয়ের সংবিধানেও সুলতান ও রাজপরিবারের সদস্যদের জন্য রাজকীয় মর্যাদা ও ভাতার কাঠামোর উল্লেখ রয়েছে।
সূত্র: দা টাইমস অফ ইন্ডিয়া
আরও পড়ুন:







