News Ticker
221.png

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় ‘পাবলিক চার্জ বন্ড’ চালু

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৪৫

শেয়ার

শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় ‘পাবলিক চার্জ বন্ড’ চালু
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পেতে যাওয়া কিছু বিদেশির জন্য নতুন ‘Public Charge Bond’ ব্যবস্থা চালু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন এই পাইলট কর্মসূচিতে প্রাথমিকভাবে ডমিনিকান রিপাবলিকের এমন কিছু ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদনকারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারের ওপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কায় ভিসা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, কর্মসূচিটি বর্তমানে ডমিনিকান রিপাবলিকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে বন্ডের পরিমাণ পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারণ করবেন কনস্যুলার কর্মকর্তারা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বন্ডের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

মার্কিন অভিবাসন আইনে ‘public charge’ বলতে সাধারণভাবে এমন একজন বিদেশিকে বোঝায়, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিজের জীবনযাপনের জন্য প্রধানত সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যায়, এর মধ্যে আয় বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট সরকারি নগদ সহায়তা গ্রহণ অথবা সরকারের খরচে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সেবার ওপর নির্ভরতার মতো বিষয় বিবেচনায় আসতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার সক্ষমতা দেখাতে হবে এবং তারা যেন মার্কিন করদাতাদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক বোঝা না হয়ে ওঠেন, সেটিই এই নীতির মূল উদ্দেশ্য।

নতুন Public Charge Bond কর্মসূচিটি বর্তমানে সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। শুরুতে ডমিনিকান রিপাবলিকের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদনকারীদের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির ওপর এটি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব আবেদনকারী আগে ‘public charge’ হওয়ার আশঙ্কার কারণে ভিসা পেতে সমস্যায় পড়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বন্ডের মাধ্যমে আর্থিক সক্ষমতার নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ এটি প্রত্যেক ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদনকারীর জন্য নতুন বাধ্যতামূলক ফি নয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগটের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন একটি অধিকার নয়, বরং নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষ সুযোগ; তাই আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্ভাব্য আর্থিক বোঝা না হওয়ার সক্ষমতা দেখাতে হবে।

এই কর্মসূচির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো বন্ডের সম্ভাব্য বিশাল অঙ্ক। বিভিন্ন সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড নির্ধারণ করা হতে পারে।

তবে প্রত্যেক আবেদনকারীকেই ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার দিতে হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। বন্ডের অঙ্ক আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনগুলোতে বন্ডকে refundable bond হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ এটি সাধারণ ভিসা ফি বা সরকারের কাছে স্থায়ীভাবে জমা দেওয়া অর্থের মতো নয়। নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে বন্ড ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে।

তবে কখন, কী শর্তে এবং কোন প্রক্রিয়ায় অর্থ ফেরত দেওয়া হবে—তা সংশ্লিষ্ট বন্ডের শর্ত ও সরকারি নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র আরও একটি ভিসা-বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করেছে। সেটি মূলত B1/B2—ব্যবসা ও পর্যটন ভিসার জন্য এবং বর্তমানে ৫০টি দেশের নাগরিক এতে অন্তর্ভুক্ত। ওই কর্মসূচিতে কনস্যুলার কর্মকর্তা নির্দিষ্ট আবেদনকারীর কাছ থেকে ৫ হাজার, ১০ হাজার বা সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য বন্ড চাইতে পারেন।

এটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসার Public Charge Bond থেকে আলাদা কর্মসূচি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তালিকায় বাংলাদেশও B1/B2 ভিসা-বন্ডের আওতাভুক্ত দেশ হিসেবে রয়েছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ওই কর্মসূচির বাস্তবায়ন ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে বলে সরকারি ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য এই খবরটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট B1/B2 visa bond ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।

অন্যদিকে, নতুন Public Charge Bond-এর ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পাইলট বর্তমানে ডমিনিকান রিপাবলিককে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে। তাই বাংলাদেশি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদনকারীদের সবাইকে এখনই ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড দিতে হবে—এমন তথ্য সঠিক নয়।

তবে মার্কিন প্রশাসন ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থাকে অন্য দেশ বা আবেদনকারী শ্রেণিতে সম্প্রসারণ করবে কি না, তা নিয়ে অভিবাসন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় একাধিক কঠোর পরিবর্তন এনেছে। এর অংশ হিসেবে শুধু অবৈধ অভিবাসন নয়, বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে চাওয়া ব্যক্তিদের আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারি সুবিধার ওপর সম্ভাব্য নির্ভরতার বিষয়েও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এরই মধ্যে ‘high risk of public benefits reliance’ হিসেবে বিবেচিত বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাংলাদেশসহ বহু দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নীতিও ঘোষণা করা হয়েছিল।

অভিবাসন অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, কয়েক লাখ ডলারের সম্ভাব্য বন্ড সাধারণ পরিবারের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পাওয়ার পথ অত্যন্ত কঠিন করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যেসব আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ী হওয়ার যোগ্য হলেও বড় অঙ্কের অর্থ এককালীনভাবে জোগাড় করতে পারবেন না, তাঁরা নতুন ব্যবস্থায় সমস্যায় পড়তে পারেন।

অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের যুক্তি হলো, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অভিবাসীরা যেন সরকারি সুবিধার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হন এবং নিজেদের আর্থিকভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হন, তা নিশ্চিত করাই এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য।

ইমিগ্র্যান্ট ভিসার Public Charge Bond বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। ডমিনিকান রিপাবলিকে এর প্রয়োগের ফলাফল পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে অন্য দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও এটি সম্প্রসারণ করা হতে পারে কি না, সেটিই এখন নজরদারির বিষয়।

একই সময়ে B1/B2 ভিসার জন্য চালু করা ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করার সিদ্ধান্তও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচি আরও দেশের ক্ষেত্রে সম্প্রসারণ করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণশিল্পও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer