News Ticker
221.png

ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৪৭

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৩৪

শেয়ার

শেয়ার

ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৪৭
ছবি: সংগৃহীত

শক্তিশালী ভূমিকম্পে আবারও কেঁপে উঠেছে ইন্দোনেশিয়া। শনিবার (১৫ আগস্ট) দেশটির পূর্বাঞ্চলের ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্র ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্দে শহরের প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে এবং ভূগর্ভের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। অগভীর হওয়ায় ভূমিকম্পটির প্রভাব ছিল ব্যাপক।

ভূমিকম্পের ধাক্কায় বহু ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফ্লোরেসের বিভিন্ন এলাকায় সড়কে ভূমিধসের কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নাজেকেও (Nagekeo) অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে সমস্যায় পড়ছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ১৫৭টি বাড়ি ধসে পড়েছে এবং আরও প্রায় ২০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শতাধিক সরকারি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ২ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় কয়েকটি এলাকায় সুনামির সতর্কতা জারি করে। পরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। তবে কিছু এলাকায় ছোট আকারের সুনামি ঢেউ আঘাত হেনেছে; রিউং গ্রামের কাছে সর্বোচ্চ ঢেউয়ের উচ্চতা প্রায় ১ দশমিক ৬১ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে।

প্রধান ভূমিকম্পের পরও একের পর এক আফটারশক অনুভূত হচ্ছে। এপি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ২৩৫টির বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি কম্পনের মাত্রাও ছিল উল্লেখযোগ্য। ফলে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অনেকে বাড়িঘরে ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

ধসে পড়া সড়ক, ভূমিধস, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এবং যোগাযোগব্যবস্থার সমস্যার কারণে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দুর্গম কিছু এলাকায় এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা জানতে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কার্যক্রম তুলনামূলক বেশি। সর্বশেষ এই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর কর্তৃপক্ষ উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করেছে।

সূত্র: এপি নিউজ

ChannelNRB Footer